ঝাড়গ্রামে চন্দন ষড়ঙ্গী খুনের ঘটনায় পরিবারকে আর্থিক সাহায্য; বিজেপির কঠোর সমালোচনায় শুভেন্দু

0
130

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ কে বা কারা ফের জঙ্গলমহলকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে প্রকারান্তরে বিজেপিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঝাড়গ্রামের তৃণমুল নেতা চন্দন ষড়ঙ্গীর খুনের প্রতিবাদে শুক্রবার এক সভায় বক্তব্য রাখছিলেন মন্ত্রী। তার আগে নিহত চন্দনের স্ত্রী শ্যামলী ষড়ঙ্গী ও ছেলে নীলাঞ্জন ষড়ঙ্গীর হাতে দলের পক্ষ থেকে তিন লক্ষ টাকা তুলে দেন। ১৮ বছর বয়স হলে নীলাঞ্জনের দায়িত্বও তিনি নেবেন বলে এদিন প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু। দুবড়ার রাবণপুরা ময়দানে এ দিনের সভায় শুভেন্দু বলেন, “বাম আমলে মাওবাদী তাণ্ডব চলার সময় এই এলাকায় প্রায় ছ’মাস গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল। বাজার হাট বসতো না, তখন বাঁধনা, টুসু পরবের মাদল বাজত না। ক্ষমতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দু’হাত ভরে উন্নয়ন করেছেন। এত কলেজ, আই টি আই, ইউনিভার্সিটি, সেতু হয়েছে। তৃণমুল কংগ্রেসের কোনও বিকল্প নেই।” শুভেন্দু বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, ‘বিজেপি এখন কথায় রাজ্য জুড়ে অশান্তি তৈরি করছে। বন্ধের দিন ৫৫টি বাস ভেঙেছে, আগুন দিয়েছে, এরমধ্যে ৪০টি সরকারি বাস। এই পরিস্থিতি হবে বলে আমি আমার চার হাজার ড্রাইভারকে হেলমেট পরে গাড়ি চালাতে বলেছিলাম। তার কারও মাথা নয়, শুধু বাসের কাঁচ ভেঙেছে।” উল্লেখ্য, ২৮ আগষ্ট ঝাড়গ্রামের সত্যডিহিতে রাস্তার ধারে ধানের খেত থেকে উদ্ধার হয়েছিল চন্দন ষড়ঙ্গীর ক্ষতবিক্ষত দেহ। এই খুনের ঘটনায় তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। সেদিনই ২৮ অক্টোবর ছাত্র সমাবেশের মঞ্চ থেকে নেমে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছে যান ঝাড়গ্রাম। চন্দনের পরিবারের পক্ষ থেকে আটজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয় ঝাড়গ্রাম থানায়। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় তাপস মল্লিক, বংশী সিং, ঝন্টু পাইন, ভীম সরেন, নিতাই হাটুই মিঠুন খামরি সহ ছয় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাপস এলাকায় পরিচিত সিপিএম কর্মী। বাকি পাঁচজনের পরিচিতি বিজেপি কর্মী হিসেবেই। ২০০২ সালে চন্দনের বাবা কংগ্রেস কর্মী মোহিনী মোহন ষড়ঙ্গীকে পুড়িয়ে মারার ঘটনাতেও অন্যতম অভিযুক্ত ছিল তাপস মল্লিক।