কম্বল, ব্ল্যাঙ্কেটের দাপটে লেপ-তোষক কারিগররা রোজগার হারাচ্ছেন

0
68
Advertisement
পত্রিকা প্রতিনিধিঃ কাজ কমছে। চিন্তা বাড়ছে হাদিশ, মোহিত, গফুরদের। টান পড়ছে রুজি রোজগারে। কম্বল, ব্ল্যাঙ্কেটের দাপটে এইসব লেপ – তোষক কারিগরদের মাথায় হাত। শীতের পরশ শুরু হতেই এইসব কারিগররা ছিট কাপড়, তুলোর বস্তা আর মাকু নিয়ে বেরিয়ে পড়েন গাঁ – গঞ্জে। বরাত নিয়ে লেপ – তোষক তৈরি করাই এদের মূল পেশা। ঘরগৃহস্থালীর উঠোনে বা দালানে বসে ঘন্টাখানেকের মধ্যেই বানিয়ে ফেলেন লেপ, তোষক, বালিশ। সেই পেশায় টান পড়তেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মহম্মদ হাদিস, মহম্মদ গফুর, মোহিত, কালাচাঁদ যাদবদের। কেনও টান ? এঁদের কথায়, ‘এমনিতেই শীতের জন্য কম্বল, ব্ল্যাঙ্কেট সহ আধুনিক নানান জিনিষপত্র বাজারে বেরিয়ে গেছে। কমছিল বরাত। তার’পর জোর ধাক্কা জিএসটি। তুলোতে কেজিতে ৫ শতাংশ জিএসটি চেপেছে, ছিট কাপড় সহ অন্যান্য সামগ্রিতে কম হলেও জিএসটি চেপেছে।  যা কিনতে দাম বেশি দিতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে লেপ- তোষক – বালিশেও দাম বাড়াতে হচ্ছে। এতেই কমছে বরাত।’ ফলে  রোজগারে টান পড়া শুরু হতেই মন খারাপ ভিন রাজ্যের এইসব কারিগরদের। পড়শি রাজ্য বিহারের বাসিন্দা এইসব মানুষগুলো কয়েকবছর আগে কাজের খোঁজে এইরাজ্যে চলে আসেন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা, চন্দ্রকোনা, গোয়ালতোড় এলাকায় ঘর করে পাকাপাকিভাবে পরিবারবর্গ নিয়ে থাকছেন। অনেকে এখানেই সচিত্র পরিচয়পত্র, রেশন কার্ড বা আধার কার্ড করে নিয়েছেন। কখনও এলাকায় ঘুরে ঘুরে, কখনও রাস্তার পাশে ঘর ভাঁড়া করে লেপ তোষক তৈরি করেন। এরজন্য তাঁরা তুলো সহ ছিটকাপড় আনেন কলকাতা থেকে। এমনিতেই কম্বল, ব্ল্যাঙ্কেটের বাজারে হাতে তৈরি লেপ তোষকের বিক্রিবাটা কমছিল। গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে জিএসটির ধাক্কা। সামলাতে বাধ্য হয়ে বাড়াতে হয়েছে লেপ, বালিশ, তোষকের দাম। ফলে কমছে বরাত। আর এতেই হাদিস, গফুর, মোহিতদের টান পড়ছে রোজগারে।
Advertisement