মাতঙ্গিনীর ৪২-এর আন্দোলনের শরিক বিপ্লবী সূর্য কুমার আদক প্রয়াত, শুভেন্দু শোকবার্তা

0
1366

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ প্রয়াত হলেন তমলুকের বিয়াল্লিশের বিপ্লবী সূর্য কুমার আদক। বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। জীর্ণ শরীর নিয়ে একেবারে শয্যশায়ী হয়ে পড়েছিলেন। বার্ধক্যজনিত রোগ ও কিডনির সমস্যার দীর্ঘদিন ভোগার পর শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বল্লুক গ্রামের বিয়াল্লিশের এই বিপ্লবী শুক্রবার সকাল ৭টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিপ্লবী সূর্যবাবু মাত্র ১৬-১৭ বছর বয়সে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। সালটা ছিল ১৯৪২। গান্ধীজি ডাক দিলেন ব্রিটিশ ভারত ছাড়ো। সমগ্র ভারতে শুরু হয় আন্দোলন।

তমলুকে বীরাঙ্গণা মাতঙ্গিনী হাজরার নেতৃত্বে আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। মাতঙ্গিনী দেবীর মিছিলে সেদিন কোনও রকম সতর্ক বার্তা ছাড়াই ব্রিটিশ পুলিশ গুলি চালায়। পরপর তিনটি গুলি খাওয়ার পর মাতঙ্গিনী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মিছিলের উপর  গুলি চলেছিল নির্মম ভাবে। মাতঙ্গিনী সহ ১০জন বিপ্লবী সেদিন শহিদ হয়েছিলেন। লাঠির আঘাতে আহত হয়েছিল আগণিত মানুষ। যাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বল্লুক গ্রামের ১৭ বছরের যুবক সূর্য কুমার আদকও। পুলিশ গুলি চালালে তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর বেস কিছুটা উপরে গুলি লাগে। অনেক রক্ত ক্ষরন হলে তমলুমের বানপুকুর পড়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন সূর্য কুমার। রক্তাক্ত হয়ে যন্ত্রণা সহ্য করতে করতে না পেরে এক সময় জ্ঞান হারিয়েছিলেন। এরপরই সূর্যবাবুকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তমলুক রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালিত হাসপাতালে। দীর্ঘ যন্ত্রণা ভোগার পর সুস্থ হলেও মুক্তি পায়নি। এরপর বৈপ্লবিক কাজের জন্য ব্রিটিশ পুলিশ গ্রেফতার করার নির্দেশ দিলে কিছুদিন আত্মগোপন করেন তিনি। অবশেষে ধরা পড়েন তিনি। অবশেষে ধরা পড়েন ব্রিটিশ পুলিশের হাতে। মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে ৬ মাসের জন্য কারাবাস হয় তাঁর। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি হোমিওপ্যাথি প্রাকটিস শুরু করেন। তমলুক শহরের শংকরআড়াতেও পরে ক্যাক্টিয়া বাজারে হোমিও প্যাথি চেম্বার চালিয়েছেন। এলাকার মানুষের কাছে তিনি বিপ্লবী ডাক্তার নামেও পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘদিন কয়েক মাস তিনি কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। বেশ কয়েকবার কখনো নার্সিং হোম কখনো হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অবশেষে ক্যাকটিয়ার বল্লুক গ্রামে নিজ বাসভবনে শুক্রবার সকালে প্রয়াত হলেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদ জানার পর পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বার্তা পাঠান। এদিনই তাঁর শেষ কৃত্য সম্পন্ন হয়।