উচ্ছেদের পুর-ফরমানে বস্তিবাসীদের বিক্ষোভ অব্যাহত, সিদ্ধান্তে অটল পুরপ্রধান

0
427

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ শহরের ডাকবাংলো রোডের নিবেদিতা পল্লীর বস্তিবাসিদের আন্দোলন বুধবার আরও জোরদার হল। বস্তি উচ্ছেদের নোটিশে মঙ্গলবার থেকে তাঁরা আন্দোলন শুরু করেন। তাঁদের বক্তব্য, পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ করা চলবে না। তাঁরা এও জানান, তাঁদের অবস্থান বিক্ষোভে কাজ না হলে তাঁরা আমরণ অনশনে বসবেন ।

বস্তিবাসীর দাবি তাঁরা প্রায় কুড়ি বছর ধরে বসবাস করছেন। অনেকে পুরসভাকে বসবাসের জন্য কর প্রদান করেন। আবার অনেকের হোল্ডিং নম্বরও রয়েছে। যা পুরসভা থেকেই দেওয়া হয়েছে। গত বছর ২৯ জানুয়ারি গভীর রাতে হঠাৎ করেই পুরসভা থেকে তাঁদের ঘর ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ। এবার পুরসভা পুনর্বাসনের কোনও কথা না বলেই মাইকে ঘোষণা করা হয় আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে জায়গা না ছাড়লে ঘরবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। ঐ ঘোষণায় বস্তিবাসী মানুষজনের ঘুম ছুটে যায়। তাঁদের অভিযোগ, পুরসভায় গিয়ে পুনর্বাসনের দাবি জানালে কর্তৃপক্ষ কান দেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই পুরসভার গেটে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বস্তিবাসী মানুষজন। শিখা কর্মকার, বিউটি বেগম, কাজল কুইতি, সরস্বতী দাসরা জানান, উচ্ছেদ করলে আত্মহত্যা ছাড়া আন্য কোনও উপায় থাকবে না বলায় পুরপ্রধান বলেন “আত্মহত্যা করবে কি করবে না সেটা তোমরা জানো,” পুরপ্রধানের কথার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন ঐ এলাকার বাসিন্দারা। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ অবস্থান বিক্ষোভ তুলে দিলেও পরের দিন বুধবার ফের বিক্ষোভ দেখানো শুরু হয়। এদিন সেভ ডেমক্রেসি ফোরামের জেলা প্রতিনিধি দল নিবেদিতা পল্লিতে যায়। ফোরামের বক্তব্য ঐ এলাকায় চার শতাধিক পরিবার বাস করে। তার মধ্য ৩০টি পরিবারকে উচ্ছেদের নোটিশ ধরানো হয়েছে। মজার বিষয় ২০১৩ সালে ঐ বস্তিতে কমিউনিটি শৌচাগার তৈরি করে দেন বিধায়ক তথা মেদিনীপুর খড়গপুর ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির চেয়ারম্যান মৃগেন মাইতি। শৌচাগারের গায়ে ঐ বিধায়কের নামও লেখা রয়েছে। খরচ হয়েছে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। যদিও এখন শৌচাগারটি যদিও তালা বন্ধ করা অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন গৃহ নির্মাণ প্রকল্পে ঐ এলাকায় ঘরও তৈরি করা হয়েছে। ঐ প্রতিনিধিদলে ছিলেন জেলা কমিটির আহ্বায়ক সুধীন্দ্রনাথ বাগ, অশোক ঘোষ, অচিন্ত মারিক, আইনজীবী রঘুনাথ ভট্টাচার্য, বিশ্বনাথ ঘোষ, সেক আতাউদ্দিন প্রমুখ।