জেলা আদালত থেকে মহকুমা আদালত সরছে খড়গপুরে, কর্মবিরতি শুরু আইনজীবীদের

0
1093

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা আদালত থেকে এবার সরতে চলেছে খড়গপুর মহকুমা আদালত। প্রতিবাদে তাই আইনজীবীদের বিক্ষোভ চরমে। চলছে তিনদিনের কর্মবিরতিও। আর যা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে বিচারপ্রার্থীরা। বেশ কয়েকবছর আগেই খড়গপুর শহর লাগোয়া বুলবুলচটিতে মহকুমা আদালতের বিল্ডিং তৈরির কাজ সমাপ্ত হলেও আইনজীবীদের ক্ষোভের কারণে তা চালু করা যায়নি। এবার সেই মহকুমা আদালত চালু করার জন্য সচেষ্ট প্রশাসন। আদালত স্থানান্তরিত করার প্রতিবাদেই এবার কর্মবিরতিতে সামিল হয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা আদালতের আইনজীবীরা। এব্যাপারে বার অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য জেলা আদলত থেকে মহকুমা আদালত ভাগ হলে একদিকে যেমন যাতায়াত সমস্যা ভুগতে হবে আইনজীবীদের তেমনই বিপাকে পড়তে হবে বিচারপ্রার্থীদেরও। তাই অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সোমবার থেকেই তিনদিনের কর্মবিরতি শুরু করেছেন আইনজীবীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা যে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তা স্পষ্ট জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। প্রসঙ্গত, জেলা আদালতগুলির চাপ কমাতে আগেই জমিজমা সংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য হাইকোর্টে চালু হয়েছে ল্যান্ড ট্রাইব্যুনাল। এরকম বেশকিছু ক্ষেত্রে বদল আনা হয়েছে। আইনজীবীদের দাবি, এই সব সিদ্ধান্তে আখেরে বিপাকে পড়েছেন বিচারপ্রার্থীরা।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ইতিপূর্বেই গড়বেতা ও দাঁতনে এসিজেএম আদালত চালু হয়েছে। আইনজীবী মহলের দাবি, আগে কোনও জামিনের অর্ডার হলে অভিযুক্তের জামিনে ছাড়া পেতে সময় লাগতো একদিন। সেখানে বর্তমানে এসিজেএম আদালতের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত জামিন পাওয়ার পরেও  তার ছাড়া পেতে সময় লাগছে তিন থেকে চারদিন। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে ভোগান্তি তেমনই ব্যয়বহুল হচ্ছে জামিনে ছাড় পাওয়ার প্রক্রিয়া। তাই এসিজেএম আদালতও বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বার অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার ফের বৈঠকে বসতে চলেছে বার অ্যাসোসিয়েশন । সেখানেই আন্দোলন নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। তবে এই আন্দোলনে একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বহুমামলা, তেমনই চরম ভোগান্তিতে দুরদুরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা। আদালত চত্বরে সব দোকানপাটও বন্ধ রেখেছেন দোকানদারেরা। আর এতেই ভোগান্তি আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে সেদিকেই নজর সকলের। এদিন আইনজীবীরা মিছিলও করেন।