অলচিকিতে পাঠ্যবই ও শিক্ষক অমিল, গড়বেতায় বিক্ষোভ-অবস্থানে সামিল আদিবাসী সমাজ

0
655

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ কথা দিয়ে কথা রাখেন নি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী এমন অভিযোগ তুলে গড়বেতা ৩নম্বর ব্লকের আদিবাসী অধ্যুষিত তিন হাইস্কুলের গেটে অবস্থান ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেছে আদিবাসী সমাজ। সমস্যার সমাধান সহ যতক্ষণ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে জেলা শাসক ও প্রজেক্ট অফিসার না যাচ্ছেন ততক্ষণ অনির্দিষ্টকাল এমন অবস্থান ঘেরাও চলবে বলে জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীদের পক্ষে মহেন্দ্র মুর্মু ও বাবুল সরেন। গত বছরও এমন কর্মসূচি করেছিল ঐ সমাজ, সেই সময় শিক্ষা দফতর থেকে বলা হয়েছিল অলচিকি হরফের পাঠ্যহই সহ প্রয়োজনীয় আদিবাসী ভাষার শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। নতুন শিক্ষাবর্ষ চালু হয়ে গেল। অথচ স্কুলগুলিতে কোনও অলচিকি হরফের পাঠ্যবই পাঠানো হয়নি। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে আদিবাসী অধ্যুষিত এমন স্কুলগুলিতে অলচিকি হরফে পাঠ্যবই সহ সাঁওতালি ভাষায় পড়ানোর জন্য ১২০০ শিক্ষকের নিয়োগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। অর্থ দফতরের বাজেট বরাদ্দও হয়। ২০০৯-২০১০ বর্ষে প্রাথমিক ভাবে ১৯২জন শিক্ষক পর্যন্ত নিয়োগ হয়। তারপর থেকে সে বিষয়ে বর্তমান সরকার নজর ফিরিয়ে নেয়।

এমন ঘটনায় প্রতিবাদ ও প্রতিকার জানিয়ে গড়বেতা-৩ নম্বর ব্লকের তিনটি হাইস্কুলের বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বিক্ষোভ ঘেরাও সহ আবস্থান কর্মসূচিতে বসেন এলাকার আদিবাসী সমাজ। নেপুরা বিজলীরানী হাইস্কুল, দামোদরপুর ধীরেন্দ্র বিদ্যাপীঠ এবং নদাশুলি হাইস্কুল এই তিনটি স্কুল গেটে অবস্থান ঘেরাও কর্মসূচি চলছে বিজলীরানী হাইস্কুলে বিডিও সহ অন্যান্য আধিকারিকরা গেলে বিক্ষোভ আরও চরম আকার নেয়। এদিন সারারাই সেই অবস্থান বিক্ষোভ চলবে বলে বিক্ষোভকারীরা জানান। সন্ধ্যা থেকে ঐ সমস্ত স্কুলগুলিতে আদিবাসী মানুষের জমায়েত আরও বাড়ছে। ধামসা মাদলের বোলে শ্লোগান সহ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকাদের ক্ষোভ সাড়া ফেলেছে। এমন প্রতিবাদ বৃহস্পতিবার আরও অনেক বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়বে বলে বিক্ষোভকারীরা জানান।