ভোট পরবর্তী হিংসা অব্যাহত, কেশিয়াড়ি ও দাঁতনে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, জখম ১১

0
461

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ ভোট পরবর্তী হিংসা অব্যাহত। কেশিয়াড়ি ও দাঁতনের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কেশিয়াড়ির আমিলসাইতে তৃণমুল-বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় দুই দলের মোট ১১ জন জখম হয়েছেন। সকলকে কেশিয়াড়ি গ্রামীন হাসপাতালে ভর্তি করনো হয়। গুরুতর আহত বিজেপির বুথ সভাপতি নবকুমার রাউত ও মঙ্গল রাউতকে মেদিনপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে বিজেপির লোকজন অশান্তি করছিল। তারাপদ দণ্ডপাট নামে এক দলীয় কর্মীকে হেনস্থা করা হয়। পরে আবার মাঠ থেকে কাজ করে ফেরার সময় তারাপদকে মারধর করা হয়। যদিও বিজেপির দাবি বাজার এলাকায় জড়ো হয়ে থাকা লোকজনের উপর অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে তৃণমূলের লোকজন তাতে আহত হয়েছেন ৭ জন।

এদিকে দাঁতন ১ ব্লকের চকইসমাইলপুরের কুশমিতে একই পরিবারের ৩ জনকে মারধর করা হয়। আহতরা বিজেপি সমর্থক । চিকিৎসার জন্য তাঁদেরকে দাঁতন গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। মারধরের ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য ও তার দলবল ছিল বলে বিজেপির অভিযোগ। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন, ঐ ঘটনা নিছক ওদের পারিবারিক বিবাদ। এতে রাজনীতির কোনও বিষয় নেই। এদিকে দাঁতনের বালিডাংরি গ্রামে তৃণমূলের দুই কর্মীকে লাঠি ও রড দিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। ঐ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত দুই বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, “ভোটের পর থেকে বিজেপি জেলার বিভিন্ন জায়গায় হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। তারপরও তৃণমূলের কর্মীরা সংযত রয়েছেন। আগামী ২৩ তারিখ ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরই বিজেপির কর্মীদের আর দেখা পাওয়া যাবে না। তৃণমূলের দু’জন প্রার্থী ঘাটালের দীপক অধিকারী এবং মেদিনীপুরের মানস ভূঁঞ্যার জয়ের ফল জানার পরই বিজেপির ওই সমস্ত কর্মী লুকিয়ে পড়বে।” এনিয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি শমিত দাস বলেন, “ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ভাঙন দেখা দেবে। দলে দলে মানুষ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেবেন। বিশেষ করে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জয়ী হলে তৃণমূলকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। “

অপরদিকে কেশপুরের মুকবসান এলাকায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে জখম হয়েছেন ৫ জন। সংঘর্ষের ঘটনায় জখমদের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।