“অধিকারী পরিবার যতই শক্তিশালী হোক না কেন, পদত্যাগ করব না।” আনিসুর

0
175
ছবি- ওয়েব ডেস্ক
পত্রিকা প্রতিনিধিঃ “অধিকারী পরিবার যতই শক্তিশালী হোক না কেন, পদত্যাগ করব না।” ফের জানালেন পাঁশকুড়া পৌরসভার চেয়ারম্যান তথা বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা আনিসুর রহমান। দলের নির্দেশ অমান্য করে চেয়ারম্যান পদে বসায় আনিসুরকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা জানান তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যদিও আজ আনিসুর জানিয়ে দিলেন, তিনি আজও তৃণমূলেরই সৈনিক। বুধবার রীতিমতো তৃণমূলের ব্যানারেই পাঁশকুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে হওয়া জনসভায় দাপিয়ে বেড়ালেন তিনি।
       সভায় জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব, বিশেষ করে অধিকারী পরিবারের বিরুদ্ধেই সবচেয়ে সোচ্চার ছিলেন তিনি। আনিসুরবাবু বলেন, “আমি যদি চেয়ারম্যান না হতাম তবে, যে সমস্ত হনুমান জেলায় লাফালাফি করছে তাঁদের শায়েস্তা করে দিতাম।” তাঁর বক্তব্য, “আমার নেত্রী যদি বলে তবে আমি এক মিনিটেই পদত্যাগ করব। না হলে কোনও অধিকারী পরিবারের যতই শক্তি থাকুক, যতই গুন্ডা পাঠাক, আমার প্রাণ চলে যায় যাবে, আমার রক্ত সমস্ত ওয়ার্ডে পড়বে, কিন্তু আমাকে জোর করে কেউ পদত্যাগ করাতে পারবে না।”
       তিনি বলেন, “পার্টি থেকে কোনও চিঠি আসেনি। সেখানে নেত্রীকে বলা হয়েছে আমি পার্টির হুইপ মানিনি, পার্টির চিঠি মানিনি। যদি বাপের বেটা হয়ে থাকেন তবে, প্রমাণ করে দিন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া কোনও চিঠি বা রাজ্যের দেওয়া চিঠি আমি মানিনি তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। আমাকে ভয় দেখাচ্ছে।  মিথ্যে মামলায় আমাকে জেলে ঢোকাবে। প্রয়োজন হলে আমি জেলে থেকেই পাঁচ বছর পৌরসভা চালাব। আর মানুষকে বিনা পয়সায় পরিষেবা দেব। দেখি পাঁশকুড়ার মানুষ আমাকে ছুঁড়ে ফেলে, নাকি আমার পাশে থাকে।”                        
     পাঁশকুড়া পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের হুইপকে অগ্রাহ্য করার অভিযোগ ওঠে আনিসুরের বিরুদ্ধে। দলের নির্দেশ অমান্য করে তিনি জোর করে চেয়ারম্যান পদে বসেছেন বলে অভিযোগ। যার জেরে সাংবাদিক বৈঠক করে আনিসুরকে তৃণমূল থেকে ৬ বছরের জন্য বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ আনিসুর। তাঁর সাফ কথা, পাঁচ বছরের জন্য তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকবেন। আর এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই তিনি পুনরায় মাঠে নেমেছেন বলে আনিসুরবাবু জানিয়েছেন।