পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুতের মাশুল অন্য রাজ্যের তুলনায় সবচেয়ে বেশি–দাবী আবেকা’র

0
878

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ অলবেঙ্গল ইলেক্ট্রিক কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বানে রবিবার সবং কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের অধীন সর্বস্তরের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সবং-এর শহিদ স্মৃতি সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির হলে শতাধিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ১৩তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল। সবং বিদ্যুৎ দফতরের এলাকাধীন সবং ব্লকের ৭টি অঞ্চলের প্রতিনিধিরা তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ সমস্যার কথা তুলে ধরেন। গ্রাহকদের অভিযোগ মাঠের পর মাঠ বাঁশের খুঁটিতে সরু তারে বিদ্যুৎ দফতর বছরের বছর ধরে বিপজ্জনকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। কয়েকটি জায়গায় দুর্ঘটনাও ঘটেছে। বন্ধ মিটার পরিবর্তন না করে হাজার হাজার টাকার মনগড়া বিল পাঠানো হচ্ছে। তা সংশোধন না করে বকেয়ার অজুহাতে বিশেষ করে কৃষি বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বোরো চাষের সময় লাইন কেটে দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের পছন্দ না হলে গ্রাহকদের অভিযোগ পত্রগ্রহণ করছে না। কন্ট্রাকটার দালালচক্র এবং অফিসের এক শ্রেণির অসৎ কর্মচারীদের যোগসাজসে গ্রাহকরা জেরবার। বহু ট্রান্সফরমার ওভারলোড থাকার কারণে সেখানকার গ্রাহকরা লো ভোল্টেজের শিকার হচ্ছে। বহুস্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ঝুঁকে যাওয়ার ফলে বিদ্যুৎ লাইন এমন নীচে নেমে এসেছে যে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা বিপজ্জনক।

সম্মেলনের প্রধান বক্তা জেলা সম্পাদক জগন্নাথ দাস বলেন বিদ্যুৎ আজ সমাজের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই প্রতিটি পরিবারের নকট বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া একটা গণতান্ত্রিক দেশের সরকারের প্রধান কর্তব্য কিন্তু কোন সরকার সে পথে না গিয়ে বিদ্যুৎ শিল্পকে বেসরকারি মালিকদের হাতে তুলে দিয়ে তাদের লাগামহীন মনাফা অর্জনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছে। ২০১৬-১৭ বর্ষে কয়লার দাম ৪০ শতাংশ ও ট্যাক্স ৭ শতাংশ এবং কারিগরি ও বাণিজ্যিক ক্ষতি ২ শতাংশ কমে যাওয়ায় ২ বছরে বন্টন কোম্পানিতে ৬৩৭৮.০৬ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত হয়েছে। যা দিয়ে কোন ভর্তুকি ছাড়াই বিদ্যুৎ মাশুল কমানো সম্ভব। তিনি আরও বলেন সারা ভারতবর্ষের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুতের দাম সবচেয়ে বেশি। বেশিরভাগ রাজ্যে কৃষি বিদ্যুতের মাশুল ৬০ প্যসা ইউনিটের মধ্যে রয়েছে। তামিলনাডু, পাঞ্জাব, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানাতে কৃষিতে বিনামূল্যে বিদ্যুতের সরবরাহ করে। ১০০ ইউনিট ব্যবহার কারী গৃহস্থদের দিলিতে ১৪৫টা, মুম্বাইতে ২২০টাকা, কেরলে ৩১৫টাকা, বিহার ৩১৭টাকা, ওড়িশা ৩৪০টা ঝাড়খন্ডে ১৭৫টাকা। অথচ পশ্চিমবঙ্গ বন্টন কোম্পানিতে দিতে হয় ৬২৩ টাকা। এই বৈষম্য হওয়া কোনমতে বাঞ্চনীয় নয় বলে মন্তব্য প্রকাশ করেন।