হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ধুন্ধুমার, প্রহৃত চিকিৎসক, উত্তেজনা, ক্ষুব্ধ সুপার

0
1375

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ও মৃতদেহ ময়না তদন্ত করতে মর্গে পাঠানোর প্রতিবাদে বুধবার রাতে রণক্ষেত্রের আকার নিল এগরার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। মৃতের পরিবারের লোকেরা হাসপাতালের কর্তব্যরত প্রবীন চিকিৎসককে মারধর করে বলে অভিযোগ। রাতে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এলেও ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ চিকিতসকরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আন্দোলনে নেমেছেন এগরা থানায় অভিযোগের পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা বুকে কালো ব্যাজ আলাগান। এগরা শহরে এদিন কোথাও প্রাইভেট চেম্বার করেন নি চিকিৎসকরা। এর পরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা এবং চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, এগরার জেড়থানের বাসিন্দা সেক হায়দার মহম্মদের দেড় বছরের শিশুপুত্র সেক সিদ্দিক মহম্মদ বুধবার সন্ধ্যা কোনও ভাবে বাড়ি সংলগ্ন পুকুরে পড়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুজির পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় হাসপাতালে দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক ধীধীপন সর্দার। তিনি পরীক্ষার পরে জানান শিশুটির মৃত্যু হয়ছে। মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য হাসপ্তালের মর্গে পাঠানো হয়। এর জেরেই উত্তেজনা ছড়ায়। রোগীর পরিবারের দাবি চিকিৎসকের কর্তব্যে গাফিলতির জেরেই মৃত্যু হয়েছে ছেলের। শিশুর ময়না তদন্ত না করে মৃতদেহ তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য দাবি জানান রোগীর বাড়ির লোকেরা। এই নিয়ে বাদানুবাদকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা যায় এবং ওই চিকিৎসককে মারধর করে রোগীর বাড়ির লোকেরা। খবর পেয়ে এগরা থানার পুলিশ ঘতনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। রোগীর পরিবারের এক সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় অপমানিত হয়ে হাসপ্তালে কাজের থেকে ইস্তফা দিতে ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন ডাঃ সর্দার। হাসপাতালের সুপার ডাঃ গোপাল কুমার গুপ্তা জানিয়েছেন ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। চিকিৎসককে মারধরের পাশাপ্সহি তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার চিকিৎসক ও কর্মীরা কাজে যোগ দিয়েছিলেন কালো ব্যাজ পরে। তবে প্রশাসন দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চিকিৎসক ও কর্মীরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।