জল কাদায় নিত্য দুর্ভোগ শহরের রাঙামাটি রেল ক্রশিংয়ে

0
664

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ মেদিনীপুর শহরের রাঙামাটিতে যাওয়ার জন্য উড়াল্পুলে হয়ে  যাওয়ায় যন্ত্রচালিত যানবাহন ও হাতেগোনা সাইকেল আরোহী যাতায়াতের জন্য উড়াল্পুল ব্যবহার করলেও বেশিরভাগ সাইকেল আরোহী ও মানুষ রেল লাইন ডিঙিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করেন। রাঙামাটি, বৈশাকিপল্লি, ইন্দিরাপল্লি, সূর্যনগর, নেপুরা সহ ঝাড়গ্রাম অভিমূখের বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষ মেদিনীপুর স্টেশন ও শহরের প্রাণকেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য নিত্য এই রেল ক্রশিং ব্যবহার করেন। পদযাত্রীদের জন্য উড়ালপুলের ওঠার সিঁড়ি থাকলেও তার সামনে নিয়মিল জমা জল, নোংরা আবর্জনার স্তূপে পরিণত হওয়ায় ও রেল লাইন দিয়ে টুক করে পারাপারের সুবিধা বলে কেউ উড়ালপূল মাড়াতে যায় না। ফলে রেল ক্রশিংই পদযাত্রী ও সাইকেল আরোহীদের একমাত্র ভরসা। অথচ হাজার হাজার মানুষের ব্যবহারের এই জায়গাটিই ক্রমাগত নরককুন্ডে পরিণত হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ রেল লাইনের দুই দিকেই মাটি দিয়ে বাঁধ দিয়ে দেওয়ার ফলে বর্ষার মরসুমে সব সময় জল কাদা জমেই থাকে। পুরনো জলট্যাঙ্ক সংলগ্ন স্টেশন রোড থেকে রেল ক্রশিং পর্যন্ত এই পথেই অস্থায়ী সব্জি ও লটারি সহ অন্যান্য দোকান থাকায় জল কাদা ঘেঁটেই নিত্যযাত্রীদের যাতায়াত করতে হয়। জল-কাদা মাখা এই রেল ক্রশিং-এর আশেপাশে পুরসভা এবং রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও আলোর ব্যবস্থা নেই। কাঁচা মাতির এই পথে একটু বৃষ্টি হলে তো আর কথাই নেই। দিনের আলোয় যদিও যাতায়াত সম্ভব, রাতের অন্ধকারে যাওয়ার সময় আঁতকে উঠতে হয়। এ নিয়ে এলাকার মানুষের চাপা ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। এর অদুরেই প্রায়শই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভা হলেও এই দুর্ভোগের সমাধানের কথা কারও বক্তব্যেই উঠে আসেনি। সামনেই দূর্গাপুজো। শহরের অন্যতম বড় পুজো রাঙামাটি সর্বজনীন। সেখানে যাওয়ার একমাত্র পথ এই রেল ক্রশিং। তাই রেল ও পুরসভার সম্মিলিত প্রয়াসে এই জায়গায় অতি দ্রুত স্থায়ী আলো ও যাতায়াত উপযোগী করে তোলার দাবি জানিয়েছেন রাঙামাটির বাসিন্দা সুদর্শন সাঁতরা, গোলাম আজাদ, ঝন্টু দাসদের। রাঙামাটির বাসিন্দা বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রকিবুল হাসান বলেন, স্টেশন ও শহর মধ্যে যাতায়াতের জন্য নিত্যদিন এই পথই ব্যবহার করি। যাতায়াতের পক্ষে অত্যন্ত অনুপযোগী। তবুও নিরুপায় হয়ে যাতায়াত করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটু নজর দিলে বহুমানুষ উপকৃত হয়।