এমন গ্রামটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো, অবাধ বিচরণ পাখি-ইঁদুর-ছুঁচোর, নিষেধাজ্ঞা নিধনে

0
1070

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ গোটা গ্রামটা যেন গোটা একটা পাখির বাসা। গ্রামের সিংহভাগ গাছেই রয়েছে পাখির বাসা কিং বা পাখির অবস্থান। গ্রামে ঢুকলে পাখির কিচিরমিচির ডাক, পাখির পালক কিংবা বিষ্ঠার গন্ধ যেন পরিচিত বিষয়। গ্রামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধা রয়েছে পাখি ধরা, পাখি মারা, কিং পাখিকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোঁড়া। এই মর্মে বোর্ডও লাগানো রয়েছে গ্রামে । শালবনি ব্লকের কুলডিহা গ্রামে পাখির এত আনাগোনার জন্য গ্রামটি পাখিরালয় নামে পরিচিত। সেখানে পাখিদের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য গ্রামের ফাঁকা জায়গায়, পুকুর পাড়ে ফলগাছ লাগানো হয়েছে। পেয়ারা, জাম, কুল, বট প্রভৃতি গাছে শালিক, চড়াই, কাক, বক, শামুকখোলা, প্যাঁচা, বাদুড়, চিল শকুন, বাজপাখি, ঘুঘু প্রভৃতি পাখির বসবাস। পাখি মারলে বা ধরলে সেই ব্যাক্তিকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন গ্রামবাসীরা। শুধু পাখি ধরা বা মারার প্রতিই নিষেধাজ্ঞা নয়, গ্রামের কেউ খাঁচার পাখি পুষতেও পারবে না, এমনই অলিখিত নিয়ম রয়েছে। কবে থেকে এমন নিয়ম? গ্রামে প্রবীণ ব্যাক্তি বুদ্ধেশ্বর মাহাত বললেন, “আমার জন্মের আগে থেকেই এই নিয়ম চালু রয়েছে। শোনা যায় ইংরেজ আমলে সিপাহিরা বন্দুক দিয়ে গ্রামে একবার পাখি মেরেছিল। গ্রামেরই এক বৃদ্ধা, ইংরেজ সিপাহির বন্ধুকের নলের মাথা মুঠোয় করে ধরে তাঁদের গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেন। সেই থেকেই গ্রামে পাখি ধরা নিষিদ্ধা হয়েছে। অপর এক প্রবীণ ব্যাক্তি সাধন মাহাত বললেন, “ছোট থেকেই গ্রামে এই নিয়ম দেখে আসছি, খুব ভালোই লাগে, বিষেষ করে সকালে যখন পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে তখন মনপ্রাণ ভরে যায়।” গ্রামের গৃহবধু পঞ্চমী মাহাতোর কথায়- সারাদিন সংসারের কাজকর্ম করার সময় বিভিন্ন ধরণের পাখির ডাক শুনতে পাই, এতেই মন আনন্দে ভরে যায়। গ্রামে পাখি ও মানুষের মধ্যে এতই নিবিড় সম্পর্ক যে গৃহস্থের বাড়ির উঠোনে মেলে থাকা ধান, গম, সর্ষে প্রভৃতি পাখিরা খেলেও কেউ তাড়াতে চান না। গ্রামের যুবক জ্ঞানরঞ্জন মাহাত বললেন- “গ্রামে শুধু পাখিই নয়, সাপ, ইঁদুর, ছুঁচোও মারা যায় না। মূলত বাস্তুতন্ত্রকে সচল রাখতেই এমন উদ্যোগ। প্রকৃতির পশু পাখি টিকিয়ে না রাখতে পারলে অচিরেই বাস্তুতন্ত্র ভেঙে যাবে।

    তবে ইদাঙ্গিং গ্রামে পাখির সংখ্যাকমে যাওয়ায় মন খারাপ হয়ে গিয়েছে কুলডিহা গ্রামের বাসিন্দাদের। তাঁদের বক্তব্য, বর্ষাকালে বিভিন্ন ধরনের পরিযায়ী পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে আসতো । এখন সেই সংখ্যাটা আগের থেকে অনেকটাই কমেছে। প্রতিবেশি গ্রামের যুবক প্রদীপ মাহাতোর ধারনা, পরিবেশ দূষণের কারণেই পাখির সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে এবং দ্রুত এই সমাধানে পদক্ষেপ না নিলে পাখির সংখ্যা আরও কমে যাবে।