রেল হকারদের উপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে খড়গপুর যৌথ মঞ্চের বিক্ষোভ, কেন্দ্রের সমালোচনা

0
564

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ খড়গপুরের তিনটি মন্ডল সভাপতি ও খড়গপুর স্টেশনের ভেন্ডারদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক হয় বিভিন্ন দাবী নিয়ে বুধবার সভা করেন বিজেপি জেলা কমিটির  সম্পাদক ও পাকসু মোর্চার জেলা সভাপতি  শংকর দাস, খড়গপুর মন্ডল সভাপতি  পি-সোমনাথম, অভিষেক আগরয়াল,জয়ন্ত ব্যানার্জী সহ ভেন্ডার কার্য্যকর্তা গন। শঙ্কর দাস বিক্ষোভ এর সূরে বলেন খড়গপুর প্লাটফর্মে যে ভেন্ডার ও রেল রানিং হকার সহ সকলকে ৩৪ বছর বামফ্রন্ট ও ৭ বছর তৃণমূল কংগ্রেসের ধ্বজাধারী ইউনিয়নের শোষণে জর্জরিত তাদের পরিবারের সদস্যদের অনাহারে অতি কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। হকারদের রুজি রুটির স্বার্থে বিজেপি  পাশে আছে ও ভবিষ্যৎ এ থাকবে ।
স্বাধীনতার ৭১ বছরের মধ্যে ৬১বছর রেল মন্ত্রী কংগ্রেসের ও তাদের বিভিন্ন শরিকদের মন্ত্রী লালু প্রসাদযাদব সহ বাংলার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেউ হকার ও যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে ভাবেননি। এরা সময়ে সময়ে কোটায় আর পি এফ ও রেল অফিসাররা  চাকরিতে নিয়োগ করেছেন ঘুষ নিয়ে তাই যোগ দিয়েই তারা বিজেপি কে বদনাম করার জন্য হকার ভেন্ডার ও সাধারণ যাত্রীদের হয়রানী করছে তা বরদাস্ত করা হবে না।
তাদের মূল দাবিগুলি হল-
১) রেলের সমস্ত রানিং হকারদের লাইসেন্স আইডেন্টিটি কার্ড।
২) খড়গপুর সহ সমস্ত প্লাটফর্মে ঠেকেদারী প্রথা তুলে ভেন্ডারদের লাইসেন্স আইডেন্টিটি কার্ড ।
৩) সমস্ত রেল হকারদের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে নথিভুক্ত করা।
শঙ্কর দাস আরো বলেন রেল হকাররা রেলে হকারি করে বলে সাধারণ রেলযাত্রীদের  নিরাপত্তার সাথে সাথে মানুষের কাছে সমস্ত খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়। এবং উন্নতমানেরখাদ্য সামগ্রী যাত্রীরা পান।
আর সেই হকারদের আর পি এফ  হয়রানি করা ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা চলবেনা এই দাবি জানানো হয় সেই সঙ্গে রেল দপ্তরের মন্ত্রী ও রেল বোর্ডএর সাথে আলোচনা চলছে ২৯১৪ কেন্দ্রীয় হকার আইন রেলে কার্যকারী করার জন্য।
খড়গপুর স্টেশনে রেলের ভেন্ডিং (হকার ) ও রেলে চত্বরে রেলহকারদের রেলের লাইসেন্সের দাবিতে সরব   হলেন বিজেপি।
বুধবার  খড়গপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে র রেল হকারদের শঙ্কর দাস  আক্ষেপ করে বলেন  আপনারা কঠোর পরিশ্রম করে পুরো রোজগারের টাকা অবৈধ কন্টাক্টর কে দিয়েছেন বা দিচ্ছেন আর আপনারা হকারি করে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন।   আর কিছু বাম ও ডান ট্রেড ইউনিয়নের নেতা কন্টাক্টর তাদের সংসার চালান হাসি মুখে হকারদের টাকায়। ভেন্ডাররা তাদের সংসারে সদস্যদের মুখে কিন্তু অন্ন, শিক্ষা,স্বাস্থ্য, সঠিক ভাবে দিতে পারছেন না। একটি অস্থায়ী জীবন-যাপনে সব সময় যেন হকাররা নিরাশায় ভোগেন। কারণ বিভিন্ন সময়ে রেল দপ্তরের বিভিন্ন রকমের নিয়মের কারণে শিকার হয়ে কাজ হারিয়ে ফেলেন অনেকেই। তাই রেলহকারদের স্থায়ী লাইসেন্সের দাবীতে ও স্থায়ীকরণের চুক্তি হিসাবে  রেলের অনুমোদিত শংসাপত্রের দাবিতে  সরব হতে হবে সকলকে।
তাহলে নিশ্চিতভাবে এই পেশার সাথে যুক্ত হকার বন্ধুরা স্থায়ীভাবে কাজ করে যেতে পারবেন। ইতিমধ্যে রেল মন্ত্রক রেল দপ্তরের কাছে একাধিকবার আবেদন নিবেদন করেছে বিজেপি-র শ্রমিক ইউনিয়নের সংগঠন।
শঙ্কর দাস আরো বলেন অভাবী সংসারে ছেলেমেয়েদের নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়েই তারা আজও সৎ ভাবে হকারি করে যাত্রীসাধারণকে কিছুটা পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।  তাই রেলহকারদের স্থায়ী লাইসেন্সের পাওয়ার আশায় বুক ও মন বেঁধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, বিজেপি সমস্ত হকার বন্ধুদের জন্য পাশে আছে ও থাকবে।