বিপ্লবী সব্যসাচীর ৩১তম বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন উৎসবে চাঁদের হাট

0
1085

দেবজ্যোতি রায়চৌধুরীঃ ত্রিশ পার করে একত্রিশ বছরে পদার্পণ উপলক্ষ্যে একত্রিশতম বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপিত হল বিপ্লবী সব্যসাচীর। অরবিন্দ নগরের সব্যসাচী ভবনে শনিবার। পত্রিকার লেখক, লেখিকা, গ্রাহক, বিজ্ঞাপ্নদাতা, পত্রিকা বাহক সহ বহুবিশিষ্ট ব্যাক্তি ও শুভানুধ্যায়ীর উপস্থতিতিতে এদিন আক্ষরিক অর্থেই বসেছিল চাঁদের হাট। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অসিত কুমার দত্ত। জন্মদিন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের স্বামী মিলনানন্দ মহারাজ। 

একত্রিশতম বর্ষ উপলক্ষ্যে উপস্থিত সব্যসাচী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল তুঙ্গে। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন অতুন্ধতী ডগরা। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন নুপুর ঘোষ, প্রিয়াঙ্কা সেঙ্গুপ্ত ও কবি অমলকান্তি পাণ্ডে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও লেখক-লেখিকাদের স্মারক সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। এছাড়াও লেখক-লেখিকা, সাংবাদিক, সংবাদকর্মী, পত্রিকা বহক সহ সমস্ত শুভানুধ্যায়ীদের সম্মান জানানো হয়। 

স্বাগত ভাষনে বিপ্লবী সব্যসাচী পত্রিকা সম্পাদক নিশীথ কুমার দাস বলেন, এখানে উপস্থিত লেখক-লেখিকা, শুভানুধ্যায়ী ও পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ব্যাক্তিদের সহযোগিতায় বিপ্লবী সব্যসাচী পত্রিকা তিরিশ বছর পেরিয়ে ৩১ বছরে পদার্পণ করল। তিনি বিপ্লবী সব্যসাচী পরিবারের সদস্য-সদস্যাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পত্রিকার এই সাফল্যে তিনি ঘোষনা করেন বর্তমানে সংবাদপত্র বিভিন্নভাবে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি। প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেতে গেলে বিভিন্ন ভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে হয়। চেষ্টা করছি ২১০১৯ সালে নতুন অত্যাধুনিক মেশিন বসানোর। সেখান থেকে রঙিন পত্রিকা প্রতকাশ করা যাবে। বিধায়ক প্রদ্যোৎ ঘোষ বলেন, সত্য সংবাদ প্রকাশ করার দায়িত্ব নিয়ে চলেছে বিপ্লবী সব্যসাচী পত্রিকা। এক্ষেত্রে পত্রিকার সংবাদিকদের ভূমিকা প্রশংসনীয় । এজন্যই একত্রিশ বছর ধরে নির্ভীকভাবে দৈনিক বিপ্লবী সব্যসাচী প্রকাশিত হয়ে চলেছে । আমামিদিনেও চলবে। লেখক গবেষক ড. মধুপ দে বলেন, বিপ্লবী সব্যসাচী পত্রিকা তিরিশ বছর ধরে চলছে, তখন ছিল বেঁচে থাকার লড়াই, এখন তা হয়েছে বৈচিত্রময়তার লড়াই। সেজন্য নতুন চিন্তা-ভাবনা নিয়ে বিপ্লবী সব্যসাচী সাহিত্য প্রকাশ করতে পারে। যেমন, প্রতি পাঁচ দশ বছর অন্তর সেরা সাহিত্য রচনাগুলি যদি ম্যাগাজিনের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায় সেটা হবে বিপ্লবী সব্যসাচীর এক নতুন অধ্যায়। 

প্রবীন সাংবাদিক , প্রাক্তন অধ্যাপক কুমারেশ ঘোষ সংক্ষিপ্ত ভাষনে, বিপ্লবী সব্যসাচী পত্রিকা প্রকাশ করে সম্পাদক নিশীথ যেমন গর্বিত, ততখানি আমিও গর্বিত কারণ নিশীথ আমার ছাত্র ছিল। কলকাতার অনেক বন্ধুদের কাছে আমাকে শুনতে হত মেদিনীপুর কী? আমি তাদের বললাম-মেদিনীপুওকে জানতে হলে, চিনতে হলে বিপ্লবী সব্যসাচী পড়তে হবে, আমি বিপ্লবী সব্যসাচীর দীর্ঘায়ু কামনা করি। 

জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ গিরীশ চন্দ্র বেরা বলেন সমাজের দর্পণ সংবাদপত্র। আগামী দিনের শক্তি সঞ্চয় করে বিপ্লবী সব্যসাচী মেদিনীপুরবাসীর কাছে গর্বিত হয়ে উঠুক এই কামনা করি। 

প্রাক্তন অধ্যাপক তথা বিশিষ্ট লেখক ড. সন্তোষ কুমার ঘোড়ই বলেন, একত্রিশ বছরের শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছে। এই বছরটা বিজ্ঞানী সত্যেন বোসুর ১২৫ বছর পূর্তি উৎসব। তাঁর বিজ্ঞান চিন্তা নিয়ে নানা কথা আজকের দিনে আলোচিত হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন ভাবনা নিয়ে বিপ্লবী সব্যসাচী এগিয়ে চলুক। নতুন নতুন ব্যাতিক্রমী সংবাদ ও কলাম প্রকাশ করা দরকার। দৃষ্টিবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ডাঃ শিবপ্রসাদ রাউৎ বলেন, বিপ্লবী সব্যসাচী পত্রিকার সঙ্গে জন্মলগ্ন থেকে আমি জড়িত। পত্রিকা প্রথম দিনের আমার বিণজ্ঞাপন্টা দেখলে আজও চোখ চলছল করে ওঠে। এই পত্রিকা সঙ্গে লেখালেখির বিষয়ে জড়িতে হতে পেরে আজও আনন্দে মন ভরে ওঠে। আজও পত্রিকা লেখা প্রকাশিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিপ্লবী সব্যসাচীর প্রয়াত কবি দিলীপ পিরির প্রয়াণে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। 

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবী শ্যামল ঘোষ, প্রভাস চন্দ্র বেরা, শংকর মাঝি, ডাঃ কাঞ্চন ধাড়া, চন্দন বসু, মদন মোহন মাইতি, সঞ্জীব সামন্ত, সিদ্ধার্থ কামিল্যা, অঙ্কুর লোধা সহ অন্যান্যরা। 

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চাওনা করেন প্রবীন সাংবাদিক শিশির চক্রবর্তী।