ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রী বনাম মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারের জোর টক্কর, মুখিয়ে জঙ্গলমহল

0
548

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ জঙ্গলমহলের ঝাড়্গ্রাম জেলায় প্রার্থীর সমর্থনে ৫ মে ভোট প্রচার আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে জেলা জুড়ে বিজেপি কর্মীসমর্থকদের ব্যপক উত্‍সাহ ও উদ্দিপনা দেখা যাচ্ছে। গ্রীষ্মের দাবাদাহের মধ্যেই প্রস্তুতি সভা, বৈঠক মিছিল করছেন বিজেপির নেতা কর্মীরা। অন্যদিকে ভোট প্রচার থেকে শুরু করে কোনও অংশে কম নেই তৃণমূল কংগ্রেস। ভোট প্রচারের দিক থেকে যথেষ্ট এগিয়ে রয়েছে শাসক দলের প্রার্থী। তাই প্রধানমন্ত্রী আসার আগের দিন ও প্রধানমন্ত্রীর সভার দিন ঝাড়্গ্রাম জেলার দুটি পৃথক জায়গায় আলাদা আলাদা ভাবে রাজনৈতিক সভা করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী চার মে গোপীবল্লপুর ও পাঁচ মে বেলপাহাড়ীতে জনসভা করতে আসবেন বলে জানা গিয়েছে তৃণমূল সুত্রে। ঝাড়্গ্রাম জেলায় দুই রাজনৈতিক দলের ভোট প্রচার এখন একেবারে তুঙ্গে। রাজনীতির ময়দানে জঙ্গলমহলে কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও মাটি ছাড়তে নারাজ। জঙ্গলমহলের মতো জেলায় দেশের প্রধানমন্ত্রী আসছেন এই খবর জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় ছাড়িয়ে দিচ্ছেন বিজেপির নেতা কর্মীরা।

বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে একটা আলাদা উত্‍সাহ দেখা যাচ্ছে। কিছুদিন আগে নরেন্দ্র মোদির মেভি চৌকিদার স্লোগানে মেতে উঠেছিলো গোটা দেশ আর সেখানে পিছিয়ে নেই জঙ্গলমহলের যুবসমাজও। তারপরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনে আলাদা উদ্দীপনা দেখা দিচ্ছে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায়। স্বাধীনতার পরে এই নিয়ে তৃতীয় কোন প্রধানমন্ত্রী ঝাড়গ্রামে আসবে জনসভা করতে।

১৯৭১ সালে তত্‍কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি সভা করেছিলেন ঝাড়্গ্রামের বেতকুন্দ্ররী মাঠে। তারপর এবারে এই প্রথম বিজেপির কোন প্রধানমন্ত্রী ঝাড়গ্রামে সভা করবে। বিজেপির ঝাড়গ্রাম জেলা নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভাকে কেন্দ্র করে প্রত্যেকটা অঞ্চল স্তরে প্রচার চালাচ্ছে জোর কদমে।কোথাও মিছিল হচ্ছে কোথাও পথসভা। ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রটি এবার কার দখলে ?

বিজেপি ও তৃণমূলের উভয় দলের কাছে একটা বড় প্রশ্ন চিহ্নের মধ্যে রয়েছে। কারণ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ঝাড়্গ্রাম জেলায় বেশ ভালো ফল করেছিল বিজেপি। যার ফলে শাসক শিবিরে কপালে ভাঁজ পড়েছিল। তবে নির্বাচনের পর থেকেই নিজেদের জমি উদ্ধারের জন্য আদা জল খেয়ে ময়দানে নামে শাসক দলের নেতা কর্মীরা।

এবারে লোকসভা নির্বাচনে তা দেখা যাবে শাসক দল তাদের হারানো জমি কতটা উদ্ধার করতে পেরেছে। এবিষয়ে ঝাড়্গ্রাম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির চেয়ারম্যান সুকুমার হাঁসদা বলেন, জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় থেকে শুরু করে কোনও অংশে বাদ নেই ভোট প্রচার করতে। সব স্তরের মানুষের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে মানুষজনের অভাব অভিযোগের কথা শুনছেন প্রার্থী।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করতে আসবেন। তার প্রস্তুতিও চলছে। অন্যদিকে ঝাড়্গ্রাম জেলা বিজেপির সভাপতি সুখময় শতপথী বলেন, “রাজনৈতিক সভা করতে সবাই আসতে পারেন। তবে দু দুটো ভি ভি আইপিকে কি ভাবে নিরাপত্তা দেবে সেটা প্রশাসনের ব্যাপার। প্রধানমন্ত্রীর সভায় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনসভায় আসবে এবং তার বক্তব্য শুনবেন”