২০০ বছর অতিক্রান্ত হয়েও চলছে মহাশোল গ্রামের সিংহ পরিবারের লক্ষী সরস্বতীপূজা ও হরিবাসর।

0
5774

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ সাড়ম্বরে পূজিত ও পালিত হচ্ছে মহাশোল ক্ষত্রিয় বংশের লক্ষী সরস্বতীপূজা।  কথিত আছে নয় পুরুষ আগে অর্থাৎ প্রায় ২০০ বছরের কাছাকাছি সময়ে এই পূজার প্রচলন হয়েছে। সেই থেকে বংশানুক্রমে এই পূজা চলে আসছে। গ্রামের ‘পাঁচবংশে’র সবথেকে বয়স্ক পুরুষ এই সিংহ বাড়ির পূজোর মূল আহ্বায়ক। গ্রামের পক্ষে চিত্তরঞ্জন সিংহ,দুলাল চন্দ্র সিংহ,নিরজ্ন সিংহ,নেপাল সিংহ এই বছরের পরিকল্পনা গুলি তুলে ধরেন ও বলেন এই পূজার ইতিবৃত্ত। কথিত আছে সিংহ বংশের আদি পুরুষ সৈজন সিংহ বিহার থেকে প্রায় সাত পুরুষ আগে বাংলায় এসে মহাশোল মৌজাতে জমি কিনে বসতি পত্তন করেন। তারপর মায়ের স্বপ্নাদেশ পান। পুরোহিত সজ্ঞয় বাবু বলেন কথিত আছে মাঘ মাসে একদিন রাত্রে বর্তমান মন্দির প্রাঙ্গনে রাত্রিযাপন করা গ্রামের কয়েকজন বয়স্ক দুই বোন এর স্বপ্নাদেশ পান ও এই স্থানে পূজা করার কথা বলেন। সেই সময় মাঘ মাস ও সরস্বতীপূজা নিকটে হওয়ায় দেবী লক্ষী সরস্বতীপূজা শুরু হয়। এবং সেই থেকেই মহাশোল গ্রামে মা লক্ষী সরস্বতী পূজা এক মেড়ের মধ্যে দাসদাসী সহ প্রচলিত হয়। পরবর্তীকালে চব্বিশ প্রহর ব্যাপী হরিবাসর এর আয়োজন করা হয় এই পূজা উপলক্ষ্যে। তখনকার একচালার খড়ের মন্দির এখন পাকার সাথে হরিমন্দির। পরবর্তীকালে প্রায় ১০০ বছরেরও অধিক সময় ধরে  পূজার পরের দিন সকালে অধিবাস করে অখন্ড হরিনাম চব্বিশ প্রহর ব্যাপী সূচনা হয় ও মেলার আয়োজন হয়। এই উপলক্ষে মহাশোলের সিংহ পরিবারের ও আশেপাশের জগন্নাথপুর, খেমাকাটা, ঝাঁটিয়াড়া,মন্ডলকূপী গ্রামের গ্রামবাসীরা ও তাদের আত্মীয়স্বজন রা এসে উপস্থিত হয় ও মেলায় অংশগ্রহন করে। এইভাবে মেলার কয়েকদিন বিভিন্ন দোকান বসে মিস্টি,ঝিলাপী সহ বিভিন্ন দোকান বসে ও মেলায় ব্যাপক জনসমাগম হয়।  হরিনামের সমাপনের পর দুই দিন ব্যাবস্থা থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের এইভাবে পূজা ও হরিনাম সহ মেলা ৭ দিনের হয়।