পরিচারিকাকে ধর্ষণ-খুনের পর প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা, দোষী সাব্যস্ত বন্দরকর্মীর মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত

0
907

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ নাবালিকা পরিচারিকাকে ধর্ষণ-খুনের পর প্রমাণ লোপাটে কেরোসিন ঢেলে মৃতদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে শ্রীমন্ত তুঙ্গ (৫০) নামের হলদিয়া বন্দরের এক অস্থায়ী কর্মীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে তমলুক জেলা আদালত। বুধবার আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক(দ্বিতীয়) সঞ্চিতা সরকার দোষী সাব্যস্ত করেন শ্রীমন্তকে। ২০ জনের মধ্যে ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। আজ, শুক্রবার নারকীয় এই ঘটনার সাজা ঘোষণা করবে আদালত।ইতি মধ্যে ওই অবিজূক্ত কে তমলুক জেলা আদালত এ তোলার সময় বিজেপি কর্মি সমর্থক রা বীক্খোব দেখায় l দোষী সাব্যস্ত বেক্তীর আদালত চত্বরে শ্রীমন্তের মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানালেন নিহত নাবালিকা পরিচারিকার পরিবারের লোকেরা। তার মা বলেন, “এই ঘৃন্য অপরাধে অভিযুক্তের ফাঁসি হোক আমরা চাই।ফাঁসির সাজা হলে আমার ভাগ্নির আত্মা কিছুটা হলে শান্তি পাবে।”ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২,৩৭৬,২০১ ও পক্সো আইনের ৬ ধারায় অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার সরকারি আইনজীবী আব্দুল মোহিত।এমনই এক ঘৃণ্য ঘটনায় গত এপ্রিলে তমলুকের এক শিক্ষককে ফাঁসির সাজা দিয়েছিলেন বিচারক সঞ্চিতা সরকার।তারও আগে রায় দান করেছিলেন কামদুনি মামলার। স্বাভাবিকভাবে এই ঘটনার ক্ষেত্রেও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড হওয়া উচিত বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ। আদালত সূত্রে খবর, ঘটনা ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট তারিখের।স্বামী পরিত্যক্তা হওয়ায় হলদিয়ার ব্রজনাথচকের বাপের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন মৃত পরিচারিকার মা। দারিদ্রতার কারণে মেজো মেয়ে অভিযুক্ত শ্রীমন্তের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতো। ঘটনার দিন দুপুরে পরিবারের লোকেরা জানতে পারেন নাবালিকা অসুস্থ বলে। পরে পরিবারের লোকেরা এসে দেখেন বাথরুমের মধ্যে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে নাবালিকার দেহ।ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণ,গলা টিপে খুন ও কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগানোর প্রমান পাওয়ার পর পুলিস মামলা শুরু করে। ২০১৭ সালের ২৩ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল থেকে শুনানি শুরু হয়।