দাসপুরে লক্ষীপুজো উপলক্ষে এক সপ্তাহ ধরে চলছে মেলা

0
678
দাসপুরের খুকুড়দহে লক্ষীবাজার কমিটির পুজো

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় লক্ষী পুজোতেই থাকে শারদোৎসবের আমেজ। কারণ এখানে লক্ষীপুজোর বাজেট আর মণ্ডপ ও প্রতিমার পারচুর্য দেখলেই তা সহজে অনুমান করা যায়। দাসপুরের সাগরপুর, সোনামুই ও খুকুড়দহ সহ বিস্তীর্ণ লোকালয়ে লক্ষীদেবী পুজিতা হলেন সাড়ম্বরে। এই এলাকাগুলিতে লক্ষীপুজোকে কেন্দ্র করে সপ্তাহব্যাপী লেগে থাকে উৎসবের আমেজ। বিশাল মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সমাজসেবামূলক নানান কাজে ব্যাস্ত পুজো কমিটির সদস্যরা। আর উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছেন এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দারাও । সমগ্র জেলাতেও সেরা পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম সেরা হওয়ার দাবি রাখে। এমনই এক পুজো হল খুকুড়দহ লক্ষীবাজার কমিটির লক্ষী পুজো। যা এবার ৫৯তম বর্ষে পদার্পণ করে। পুজো কমিটির সম্পাদক শক্তিপদ আদক জানালেন, এবারে তাঁদের পুজোর বাজেট আট লক্ষ টাকা। দিল্লির আক্ষরধামের আদলে গঠিত হয়েছে মণ্ডপ। প্রতিমায় রয়েহে চিরায়ত বাংলার লোক শিল্পের ঐতিহ্য। পুজোকে কেন্দ্র করে সপ্তাহব্যাপী চলে মেলা, নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির, বিনাব্যায়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নিখরচায় ওষুধের ব্যবস্থাও রয়েছে এই মেলায়। শক্তিবাবু আরও জানালেন, খুকুড়দহ যেহেতু পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সংযোগস্থল তাই এই পুজোর এক আলাদা গুরুত্বও রয়েছে। দুই জেলায় মানুষই সমানভাবে উপভোগ করেন এই পুজো ও মেলা। আর একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন মেলা হল দাসপুরের সাগরপুর পল্লী উন্নয়ন সমিতির ৬৭বছরের লক্ষীপুজো। পুজোর সম্পাদক বলরাম হাইত জানালেন, এবারে তাঁদের পুজোর বাজেট ছিল ৬লক্ষ টাকা। তাদের পুজোর স্থায়ী বেদি রয়েছে। তাই মণ্ডপ হন না। পুজোকে কেন্দ্রে করে এই মেলা আত দিন ধরে চলবে। দাসপুর, সাগরপুর, বলিহারপুরের মতো। আনেক গ্রামের মানুষ এই মেলায় অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ছাড়াও গরীবদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণের মত সমাজসেবামূলক কাজের খরচও ধরা হয়েছে, এই পুজোর বাজেটে। মেলা কমিটির অন্যতম সদস্য সঞ্জয় হাইত জানালেন, পুজোর গুরুত্ব বেড়েছে জন সমাগমে।

মানুষের উপস্থিতি বাড়াতে আমরা শতাধিক দোকান বসিয়েছি আমাদের মেলায়। সব ধরনের জিনিস্পত্র মিলছে এই মেলায়। ঘাটাল পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কের ধারে সোনামুইতে সোনামুই হাট কমিটির সর্বজনীন লক্ষীপুজো। পুজোর খুবই ধুমধামে সম্পন্ন হল। পুজো কমিটির সম্পাদক অজিত মণ্ডল জানালেন, এবারে তাদের পুজোর বাজেট প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা। মণ্ডপ তৈরি হয়েছে দক্ষিণ ভারতের মন্দিরের ধাঁচে। এখানেও সাতদিন ধরে মেলা চলবে। হবে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তবে সবকটি পুজোর কমিটির সাথে কথা বলেই জানা গেছে, এই পুজোর কটাদিন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সবাই মিলে আনন্দ উৎসবে সামিল হয়েছেন। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মূল মাহাত্ম্য বোধহয় এখানেই।