পেল্লাই সাইজের জিলিপি হাড়দার লক্ষী পুজোর মূল আকর্ষণ

0
275

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ পশ্চিম মেদিনীপুরের বিনপুর ব্লকের হাড়দা গ্রাম ৷ সেই গ্রামের মণ্ডলদের পারিবারিক পুজোই এখন গ্রামের সকলের পুজো ৷ এমনকী আশপাশের গ্রামের মানুষও মাতেন পুজোর আনন্দে ৷ পুজোর সমস্ত খরচ বহন করেন মণ্ডলরাই ৷ এই পুজোকে কেন্দ্র করে আগে এক মাস ধরে মেলা বসত ৷ এখন তা কমে এসে দাঁড়িয়েছে পাঁচ দিনে । এই বছর মেলা দুদিন বেড়ে হয়েছে সাত দিনের ।
মন্ডলদের এই পূজো শুরু করার পেছনের কাহিনী হল কৃষি ভিত্তিক এলাকা হাড়দা । এক সময় মন্ডল দের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ । চাষ করে কোনো রকমে দিন গুজরান হতো । তার উপর নীচু জাতি বলে গ্রামের উঁচু জাতির লোকের এদের ছোঁয়া তো দুরের কথা বাড়িতে এলে গোবর জল ছিটাতো বলে শোনা যায় । সে আজ প্রায় দেড় দুশো বছর আগের কথা । ফসল বুনে ঘরে তুলতে না পারলে সারা বছর চলবে কি করে ? খরা তো লেগেই আছে । ফসল ঘরে না তুলতে পারলে সন্তান সহ পরিবারের সকলেই অনাহারে থাকবে । মা লক্ষী হলেন সম্পদের দেবী । তার আরাধনা করলে অন্তন না খেয়ে মরতে হবে না । তাই সুরেন্দ্রনাথ মন্ডল মনে মনে ঠিক করলেন মা লক্ষীর পূজো করবেন । তারপরই মন্ডলদের এক গুরুদের সুরেন্দ্রনাথ মন্ডল কে পূজো করার অনুমতি দেন । এবং আজ থেকে ১৫৬ বছর আগে সুরেন্দ্রনাথ মন্ডলের হাত ধরে হাড়দা তে শুরু হয় লক্ষী পূজো ।
                    পুজো প্রচলনের কাহিনিতে হাড়দা যেমন একটু অন্যরকম , তেমনই প্রতিমাতেও ৷ চিরাচরিত লক্ষ্মী প্রতিমার থেকে এখানকার প্রতিমার আদল খানিকটা আলাদা ৷ একচালার কাঠামোর  দুই দিকে দুই বোন–সম্পদের দেবী লক্ষ্মী এবং বিদ্যার দেবী সরস্বতী ৷ মাঝখানে স্বয়ং নারায়ন । আর দুই পাশে থাকে দুই সখি । প্রতিমা স্বর্ণালঙ্কারে সজ্জিত ৷ আগে প্যান্ডেল বেঁধে পুজো করা হত ৷ এখন স্থায়ী মণ্ডপ তৈরি হয়েছে ৷ হাড়দার লক্ষী পূজোর মূল অাকর্ষন হল  আতসবাজি পোড়ানো । আতসবাজীর এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে সূচনা হয় পুজোর ৷ আতসবাজীর জন্যই প্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা খরচ হয় বলে জানান বর্তমান পূজঅঅ কমিটির সম্পাদক সিন্টু সাহা ।  অাতসবাজীর অনুষ্ঠান শেষে গ্রামের সবচেয়ে বড় জলাশায় (প্রায় ১৩০ বিঘা) থেকে ঘট ডুবিয়ে এনে পুজোর পর্ব চলে ভোররাত পর্যন্ত ৷
        প্রতিমা আলাদা বিশেষত্বের সঙ্গে সঙ্গে পুজোর প্রসাদেরও আছে বিশেষত ্ব৷ দেবীকে দেওয়া হয় বিশেষ একপ্রকার বুটের লাড্ডু ৷ পাঁচ  দিনের এই মেলায় পাঁচ কুন্ট্যালের উপর এই লাড্ডু বিক্রি হয় । প্রসাদের আরও একটি বৈশিষ্ট্য আছে ৷ দেবীর নৈবেদ্যে কোনও কাটা ফল দেওয়া হয় না । সব ফল গোটা দিতে হয় ৷
             ক্ষিরপায়ের বাবরশা , পাঁশকুড়ার চপ , শক্তিগড়ের ল্যাংচা , দেওঘরের যেমন প্যাঁড়া , বারাণসীর যেমন রাবড়ি , তেমনই এই হাড়দার লক্ষী পূজোর  অন্যতম আকর্ষণ অমৃতি বা বিউলির কলাই এর জিলিপউই ৷ পুজোর প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগেই এই জিলিপির দোকান নিলাম হয় ৷ এই বছর জিলিপির দোকানের  দর উঠেছে এক লক্ষ এগারো হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন পূজা কমিটির সভাপতি নিমাই চন্দ্র মন্ডল ।  মেলায় জিলিপির দোকান কে দিতে পারবেন তা ঠিক করতেই এই নিলামের ব্যবস্থা৷ এমনকী জিলিপি কত টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হবে তার দাম বেঁধে দেওয়া হয় কমিটির তরফে৷ মেলায় প্রতিদিন প্রায় ১০০ কুইন্টালের উপর জিলিপি বিক্রি হয় ৷ জিলিপির জন্যই বহু লোক, বহু দূর থেকে মেলায় আসেন ৷ জিলিপির আকারও দর্শনীয়৷ পেল্লায় সাইজ ৷ এই বছর এই জিলিপির মূল্য ধার্য্য করা হয়েছে প্রতি কেজি সত্তর টাকা করে বলে জানান মেলাতে জিিলিপি দোকানের মালিক সিন্টু সাহা ।
          পূজো কমিটির সম্পাদক সিন্টু সাহা বলেন , “পুজোকে কেন্দ্র করে বসে যাত্রার আসর ৷ দুদিন ধরে কলকাতার যাত্রা দলেরই  যাত্রার আয়োজন রয়েছে ।এছাড়াও আয়োজন করা হয়েছে নানা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ৷ এই বছর পূজোর বাজেট প্রায় সতের লক্ষ টাকা” ।