সরব মেদিনীপুর নাগরিক সমাজ

0
813
পদ্মাবতী চরিত্রে দীপিকা পাডুকোন- ছবি ওয়েব ডেস্ক
পত্রিকা প্রতিনিধিঃ  ‘পদ্মাবতী’ চলচিত্রের নির্মাণ ও মুক্তির বিরুদ্ধে মেরঠ ও হরিয়ানার বিজেপি নেতারা প্রকাশ্য স্থানে ছবির নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোন-এর নাক কাটার হুমকি দিয়েছেন, তাঁর ও ছবির নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বনশালীর ‘মাথা’ কাটার জন্য পাঁচ ও দশ কোটি টাকার ইনাম ঘোষণা করেছেন। কিন্তু ইজেপির কোনও নেতাই ঐরকম ঘোষণার জন্য কোন নিন্দা বা সমালোচনা করেননি। ওই ঘটনা ভারতের রাজনীতির ক্ষেত্রে অভুতপূর্ব এবং ঐতিহাসিক, যা ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ এর লেখক সলমন রুশদির ‘মৃত্যুদণ্ড’ ফতোয়ার কথাই স্মরন করিয়ে দেয় বলে মনে করছে মেদিনীপুর নাগরিক সমাজ। ঐ নাগরিক সমাজের সভাপতি অনুত্তম ভট্টাচার্য ও সম্পাদক সুরেশ্চন্দ্র দাস এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছেন সিনেমার নির্মাণ ও কাহিনীর বিরুদ্ধে এর আগেও বহু প্রতিবাদ হয়েছে। কিন্তু এরকমটি কখনও হয়নি। আরও সাংঘাতিক, এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ‘পদ্মাবতী’ ছবির মুক্তির ব্যবস্থা সফল ভাবে করার আশ্বাস দেওয়ায় হরিয়ানায় ঐ বিজেপি নেতা সুরজ পাল আমু মুখ্যমন্ত্রীরও নাক কেটে দেওয়ার জন্য মানুষকে উষ্কানি দিয়েছেন। অনুত্তমবাবু ও সুরেশবাবু বলেন, মেদিনীপুর নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আমরা এই সমস্ত উস্কানিমূলক ও হঠকারি ঘোষণার নিন্দা করি এবং তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আসনে বিশেষ করে এক জনগোষ্ঠীর ভাবাবেগ উস্কে দিয়ে আসন্ন ভোটের রাজনীতির স্বার্থেই বিজেপি নেতৃত্ব সারাদেশে হিংসার কদর্য রাজনীতি চালু করছেন। 
এছাড়াও সুরেশবাবুর অভিযোগ ও রাজ্যের শাসক দলের একজন নেতা, যিনি বীরভূমের জেলা তৃণমূল কংগেস সভাপতি তিনি ‘পুলিশকে বোম মারার’ কথা বলেছেন এবং ‘বিরোধীদের চোখ উপড়ে নিয়ে পাথরের চোখ’ বসিয়ে দেবার কথা বলেছেন, অথচ মুখ্যমন্ত্রী বা পুলিশ, কেউই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কথা বলছেন না। বিজেপি যেমন কংগ্রেসহীন নির্বাচনী ফলাফল চাইছে, তমনই এরাজ্যেও তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কিছু নেতা আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচন বিরোধীশূন্য করার কথা ঘোষণা করেছেন।
মেদিনীপুর নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অগণতান্ত্রিক এবং হিংসাত্মক ঘোষণার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।