“যিশু ভারতে পা রেখেছিলেন দুবার”- খুব কম মানুষই জানেন এই রহস্য

0
1559
নিউ টেস্টামেন্টে বর্ণিত যিশুর চোদ্দ (১৪) বছর থেকে ঊনত্রিশ (২৯ ) বছর পর্যন্ত জীবনকালটি আজও রহস্যে আবৃত । এ সময় তিনি কোথায় ছিলেন তার ঠিকমতো বিবরণ বাইবেলে পাওয়া যায় না। প্রাচীন বাইবেলে আছে ‘…বালকটি শক্ত সমর্থ হয়ে বেড়ে ওঠে । তারপর ইসরাইলে আসার আগে পর্যন্ত মরুভূমিতে জীবন কাটায়।’ কাশ্মীরের প্রখ্যাত পুরাতত্ত্ববিদ বিন্দা হাসনাইম তাঁর ‘দ্যা ফিফ্‌থ গসপেল’ বইটিতে বলেছেন এই মরুভূমিতে জীবন কাটানোর অর্থ হল, তেরো বছর বয়সেই তিনি দেশান্তরী হয়েছিলেন। এই সময়ে যিশু জেরুজালেমের বণিকদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশে ঘুরে কাশ্মীরে আসেন। বিন্দা হাসানাইনের মতে যিশু দু’বার ভারতে এসেছিলেন। প্রথমবার ১৩-১৪ বছর বয়সে এবং দ্বিতীয়বার ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পর। কোনো অলৌকিকতা পরিহার করে হাসানাইন সাহেব বলেছেন যিশুর অনুগামীরাই গোপনে তাঁকে ক্রুশ থেকে নামিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ, সমকালে আধ্যাত্মিকতার বৈভবে, জ্ঞান, গরিমায় তার ছিল এক স্বর্গীয় দেশ। কবিগুরি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুল (১৮৬১-১৯৪১) তাঁর গীতাঞ্জলি (১৯১৩) কাব্যগ্রন্থে ‘ভারততীর্থ’ কবিতায়  বলেছে- ‘হেথায় আর্য, হেথা অনার্য, হেথায় দ্রাবিড় চিন-/শক-হুন-দল পাঠান মোগল এক দেহে হল লীন।’
এই বহির্দেশীয় শক হূনদের সঙ্গে ইসরাইলের লোকও এসেছে। গ্রীসদেশ থেকে আলেকজাণ্ডার দি গ্রেট (৩৫৬-৩২৩ খ্রীঃপূঃ) ৩২৬ খ্রীঃ পূর্বাব্দে ভারতে আসেন স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় ৩২৩ খ্রীঃ পূর্বাব্দে ব্যাবিলনে তাঁর মৃত্যুর পর ভরতের সঙ্গে ভূমধ্যসাগরের পূর্বতীর অঞ্চলের যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। অনেকে বলেছেন যে, ইসরাইল থেকে বিলুপ্ত দশটি জাতি গোষ্ঠীর সন্ধান ভারতের কাশ্মীর সহ আফগানিস্থানে পাওয়া গিয়েছে। যিশুর জন্মের বহুয়াগে থেকেই হিব্রুভাষী ইহুদিরা কাশ্মীরে বসবাস করতেন। আমরা জানি আকাশের এক উজ্জ্বল তারাকে দেখে প্রাচ্য দেশীয় তিনজন  পণ্ডিত, মহাপুরুষের আগমণ বার্তা জানতে পেরে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে জেরুজালেমে পৌঁছে প্যালেস্টাইনের অত্যাচারী রাজা হেরভ সঠিক খবর না দিলেও তাঁরা বেথেলহেমের আস্তাবলে গিয়ে সোনা দিয়ে ভগবান যিশুর মুখ দেখেছিলেন এবং সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উপহার সামগ্রী তুলে দিয়েছিলেন শিশু যিশুকে। এঁদের এই উপহার দেওয়া থেকেই যিশুর জন্মদিন পালনের বড়দিন উৎসবে আত্মীয় স্বজন বন্ধুদের উপহার দেওয়ার প্রথা চালু হয়। খ্রিষ্টীয় ধর্মতত্ত্ব নিয়ে স্নাতক হোলগার কার্স্টেন নামে এক জার্মান যিশুকে নিয়ে গবেষনা করে ‘জেসাস লিভড্‌ ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘দ্য জেসাস কনস্‌পিরেসি’ ইত্যাদি কয়েকটি বই লিখে পৃথিবী তোলপাড় করে দিয়েছিলেন। প্রথম বইটি তো ৩২টি ভাষায় অনুদিত হয়েছিল। গবেষক কার্স্টেনের মতে ওল্ড টেস্টামেন্টে ইহুদিদের আদিপুরুষ আব্রাহামের বাসভূমি যে হায়ান শহরের কথা বলা হয়েছে- তা মেসোপটেমিয়ায় নয়, কাশ্মীরের শ্রীনগরের কাছে ‘হায়ওয়ান’ হল সেই হায়ান । বেথপিত্তর বলে যে স্থান দিয়ে মোজেস ইশ্বরের দেশে যান- তা আসলে ঝিলাম নদীর প্রাচীন ফরাসি নাম ‘বেহাত’ । উলার হ্রদে যেখানে ঝিলাম মিশেছে তার নাম ‘বেহাত পিত্তর’ । কাশ্মীরের লাদাখ, লেহ, গিল্গিট ইত্যাদি স্থান নামগুলি এসেছে পশ্চিম এশিয়ার প্রাচীন সিরিয়ার ল্যাড্ডাক, লোহগোলগাথা’ ইত্যাদি শব্দ থেকে। 
১৯৬৩ তে সুফি মতিউর রহমান বেঙ্গলি প্রকাশ করেন ‘দ্য ট্রুথ অফ জেসাস’ তিনিও পুরাতত্ত্ববিদ হাসনাইন সাহেব ও গবেষক কার্স্টেনের বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন উপকথার মতো ক্রুশবিদ্ধ হয়ে যিশুর মৃত্যু না হওয়ার কথাই বলেছেন। ইহুদিদের আদিপুরুষ আব্রাহামের ঈশ্বরের দেশ এই ভারবর্ষের কাশ্মীরের স্বর্গীয় ভূমিতে এসে যিশু শেষ বয়স পর্যন্ত কাটিয়েছিলেন। ভারতে তাঁর পরিচিত ছিল ‘ইউজ আসিফ’ নামে । ‘ইউজ’ শব্দের অর্থ যিশু। শ্রীনগরের ঝিলাম নদীর উপরে বাদসা কানাল ব্রিজের একটু আগের রাস্তা ধরে কিছুটা আগালেই খালিয়ার এলাকায় ‘রোজাবল’ মসজিদে দেখা যাবে ইউজ আসফের সমাধি । এই সন্তর বহুযুগ আগে কাশ্মীরে আসার কথা খোদাই করে বলা আছে মসজিদে ঢোকার মুখে। প্রাচীন ইহুদিদের মতো ইয়ূজ আসফের সমাধি পূর্ব-পশ্চিম মুখে আড়াআড়ি করে রাখা। ভক্তজনেরা বহুকাল ধরে শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাধির উপর যে স্থানটিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে আসতেন, কিছুকাল আগে সেই পোড়া মোমের স্তুপ সরাতে গিয়ে আবিষ্কৃত হয় দুটি পায়ের ছাপ এবং সেই দুটি পায়ের মধ্যে ক্ষত চিহ্ন দেখা গেছে আশ্চর্যজনকভাবে। যিশুর জীবনকে নিয়ে ভারতীয় ঔপন্যাসিক আশ্বিন সাংঘির উপন্যাস ‘দি রোজাবল লাইন’ প্রকাশিত হয়েছে ২০০৭ সালে। প্রায় ২০০ বছর আগে এই সমাধি নিয়ে সুফি কবি খাজা মহম্মদ দিদামারি লিখেছিলেন – ‘এই সমাধি এম এক ঐশ্বরিক ক্ষমতা সম্পন্ন মহাপুরুষের, যিনি বিদেশ থেকে এসে মানুষের মধ্যে প্রেম ও করুণার বাণী তিতরণ করেছিলেন। এই ব্যাক্তির নাম ইউজ আসফ।’ মসজিদের খোদাইনামা থেকে জানা যায় তিনি ছিলেন ভারতে বহিরাগত সম্ভবত খ্রিষ্টীয় প্রথম শতাব্দী বা তারও কিছু আগে এসেছিলেন। তাহলে তখন কি ইসলাম ধর্মের অস্তিত্ব ছিল? ইসলামের বয়স ১৪০৭ বছর এবং হজরত মহম্মদের জন্ম ৫৭০ খ্রিষ্টাবে। তিনি স্বর্গীয় দূত গ্যাব্ররিয়েলের কাছে শোনা ধর্মকথা সাধারণ মানুষের কাছে প্রচার করেন চল্লিশ বছর বয়সে। হজরত মহম্মদের প্রচারিত একেশ্বরবাদই হল ‘ইসলাম’ 
লেখকঃ ড. অমল কান্তি পাণ্ডে