কালীঘাটের কালীকথা

0
88

দেশময় মন্দির-শিব ও কালীর, তার মধ্যে কালীঘাটের কালীমন্দির অন্যতম। প্রজাদের মঙ্গলার্থে বড়িশার শিবদেব রায়চৌধুরীর হাতে শুরু হয়ে শেষ হয় পুত্র রামলাল ও ভ্রাতুষ্পুত্র লক্ষ্মীকান্ত্র হাতে। ১৮০৯ খ্রীষ্টাব্দে তৈরি আটচালা এই মন্দিরের পোড়ামাটির কাজ কালের কবলে আজ নষ্ট হয়েছে। তবে, পরবর্তীকালে জনৈক সন্তোষ রায়ের হাতে সংস্কার হয় মন্দির। আর ১৯৭১ এ মন্দিরের তোরণটি তৈরি করেন বিড়লা সংস্থা। সংস্কারও হয় নতুন করে ৯০ফুট উঁচু মন্দির বিড়লাদের হাতে। তবে, তারও অতীতে যশোহররাজ প্রতাপাদিত্যর খুল্লতাত রাজা বসন্ত রায়ের গড়া আদি মন্দিরটি লুপ্ত।

    আদি গঙ্গার পারে কালীঘাটে খুবই জাগ্রতা দেবী কালিকা। মহাযোগী গোরক্ষনাথজীর প্রতিষ্ঠিত দেবীর অধোভাগ দৃশ্যমান নয়। মুখ কালো পাথরে তৈরি। ১০কেজি স্বর্ণালঙ্কারে ভূষিতা দেবীর জিভ, দাঁত, হাত, সোনার পাতে মোড়া। দেবীর হাতের খড়গটি রুপোর তৈরি। মুণ্ডটিও রুপোর, গলার মুণ্ডমালা সোনা ও রূপোয়, মুকুট হয়েছে সোনায়। শিবমূর্তি ছাতা ও চালচিত্র রুপোর তৈরি। প্রতি বছর স্নানযাত্রার দিন স্নান করেন দেবী। চোখ বাঁধা রুদ্ধাদ্বার কক্ষে স্নান করান প্রধান পুরোহিত। ৫১সতী পীঠের এক পীঠও এই মন্দির। সতীর দক্ষিণ পদাঙ্গুলি পড়ে এখানে।

    রাসবিহারী এভিন্যুগামী যে কোনও বাসে বা মেট্রো রেলে কালীঘাট পৌঁছে মন্দির পর্যন্ত হেটে যেতে হয়। পাণ্ডাদের দেবী দর্শনের বিশেষ ব্যবস্থারও প্রচলন আছে, তবে পাণ্ডাদের উৎপীড়নও আজ কিছুটা প্রশমিত। বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্রও গড়তে চলেছে কলকাতার অন্যতম হেরিটেজ বিল্ডিং কালীঘাট তীর্থ মন্দিরে। স্বর্ণতোরণ হচ্ছে মন্দিরের সামনে। মন্দির চত্বর, আশপাশ-চারপাশের সঙ্গে আদিগঙ্গাও সংস্কার হয়ে লঞ্চ চলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত সরকার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কলকাতা পুরসভা ও আনাবাসী ভারতীয়দের সংস্থা এফ এস ডি।

    আদুরে মন্দিরের ঈশানকোনে (উঃপূঃ) পীঠরক্ষক দেবীর ভৈরব নকুলেশ্বর ও অন্যদিকে নৈঋত কোণে (দঃপঃ) কেওড়া গাছের জঙ্গল কেটে গঙ্গার ধারে কেওরা তলা মহাশ্মশান। বংলার বাঘ আশুতোষ, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন প্রমুখ মনীষীর নশ্বর দেহ পঞ্চভূতে বিলীন হয় এখানেই-স্মারকসৌধও হয়েছে। ভূকৈলাসের মন্দিরটিও আর এক দ্রষ্টব্য।

(ভ্রমন সঙ্গী পুস্তিকা থেকে উদ্ধৃত)