চোখের ব্যথার উপশম

0
1624

শিবপ্রসাদ অধিকারীঃ-  মানুষের সর্বোত্তম সম্পদ চোখ। মনের সমস্ত ভাব প্রকাশ পায় চোখের মাধ্যমে। অথচ নিজেদের অজান্তেই অনেক সময়, চোখের প্রতি যথেষ্ট আমরা অবহেলা করি। ফলে দেখা যায় নানা ধরনের চোখের সমস্যা। কেবল শুধু চোখের সৌন্দর্য বৃদ্ধির দিকে সজাগ হলে চলবে না চাই এই চোখ দুটির প্রতি যত্ন নেওয়ার । প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিষ্কার নরমাল ঠাণ্ডা জলে চোখ ধোয়া দরকার। সারাদিনে ৩-৪ বার এরকম জল দিয়ে আস্তে ঝাপটা দিয়ে চোখ ধোয়া দরকার। এতে চোখ ইনফেকশান হওয়ার ভয় কম থাকে। তবে খেয়াল রাখতে হবে জোরে জলে ঝাপট যেন না হয়। তবে বেশি বা বার বার চোখে জল দেওয়া উচিত নয় এতে চোখের জলের এনজাইম ও অ্যান্টিবডি ধুয়ে বেরিয়ে যায় চোখের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। যখন তখন চোখে হাত দেওয়া উচিত নয়। 

চোখের নানা সমস্যার মধ্যে চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখের নানা ধরনের ইনফেকশন বা চোখ ব্যাথা হতে দেখা যায়। একটু সচেতন হলে এ জাতীয় ছোটো খাটো সমস্যা সহজেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। 

কেন চোখে ব্যথা হয়?

সব বয়সের মানুষ্রই চোখের ব্যাথা হতে পারে। কারণ হিসেবে বাচ্চাদেরও চোখের ব্যাথা হতে পারে। মাথার ব্যাথাও চোখের কারণে হতে পারে। আবার মাথা ব্যথা থেকেও চোখের ব্যথা হয়। অনেকেরই চোখের সমস্যা থাকলে চোখের ব্যথা হয়। কোন শারীরিক কারণে চোখ ব্যথা হচ্ছে কিনা ডাক্তারবাবুর পরামর্শ নিন। চোখের কর্নিয়াতে আঘাত লাগলে বা ক্যামিকেল ব্যবহার হলে যেমন চোখে অয়াসিড, খার বা অ্যালকোহল জাতীয় কিছু চোখে পড়লে। আতস বাজির টুকরো বা ধুলো বালি ইত্যাদি চোখে পড়লে বা ফরেন বডি চোখে আটকে থাকলে চোখ ব্যথা হয়। চোখে কোন রকম আলসার বা জীবানু সংক্রমণ হলে চোখ লাল হবে এবং ব্যথা হবে। আর্থারাইটিস রোগী বা টি বি বা ঐ জাতীয় শরীরে কোন রোগ থাকলে ইউ ডি আই টিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে চোখে।

চোখে জয়বাংলা থাকে বলে কনজাংটিভাইটিস হলে চোখে ব্যাথা হয়। ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস হলে সাধারণত একদিকে চোখে খুব করকর করে মনে হয় যেন কিছু পড়েছে। এক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিতসকের পরামর্শ সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া উচিত।

চোখে আঞ্জনি হলে চোখে ব্যথা হয়। চোখের দেখার কোন সমস্যা থাকে বলে চোখে কোনও পাওয়ার এসে গেলে চোখ ব্যথা করে। এ থেকে চোখের সঙ্গে মাথারও ব্যথা হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় এই সমস্যাটি।

কম্পিউটর, মোবাইল বা যে কোন ইলেকট্রনিক জিনিস ব্যবহারের ফলে চোখে একটা চাপ পড়ে। তাতে চোখে হালকা হালকা ব্যথা হয় এটিকে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় কম্পিউটর ভিশন সিনড্রম। এক্ষেত্রে মাঝে মাঝে চোখকে বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন। ২০ মিনিট কাজ করার পর ২০ সেকেন্ড চোখের পাতা বন্ধ রেখে বিশ্রাম নেওয়া উচিত এরপর প্রথমে চোখ খুলে ২০ফুট দুরত্বে তাকিয়ে চোখের আরাম দিলে চোখে ব্যথা অনেকাংশে কম হয়।

ঠান্ডা বা সর্দি কাশি হলে অনেকসময় যাদের সাইনুসাইটিস আছে তাদের মাথার ব্যথার সঙ্গে চোখে ব্যথা হয়। এক্ষেত্রে ই এন টি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক সময় মাইগ্রেন থাকলে মাথার ব্যথার সঙ্গে চোখেরও ব্যথা হয়। এক্ষেরে একটা বলা ভাল চোখের মাসেলের কোন সমস্যা থাকলে তারা একটা বস্তুকে দুটি দেখে। এখানে চোখের পাওয়ার থাকতেও পারে আবার নাও পারে। ছাত্রছাত্রীরা মাঝে মাঝে প্রশ্নপত্র ভূল করে ছেড়ে আসে। পড়তে গেলে মাথা ব্যথা করে, বমি বমি ভাব হয়। এখানে চোখের পাওয়ারের সাথে কতকগুলি চোখের ব্যয়াম করলে ভালো হয়ে যায়। এটি স্কুল ও কলেজ ছাত্রছাত্রীদের হয়ে থাকে, অনেকে ভূল করে মাইগ্রেন বলতে থাকেন। তাই চোখের এরকম ব্যথা হলে অবশ্যই চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভাল।

সর্বশেষে একটা কথা বলা ভাল চোখে কোনও অসুবিধা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যারা চোখের উপর চাপ দিয়ে কাজ করেন তাদের চোখের বিশ্রাম দিতে হবে। নির্দিষ্ট স্থান থেকে দূরে মাঝে মাঝে তাকান ভালো । দুবেলা ঠাণ্ডা জলে চোখ ধুতে হবে। পারলে একমগ জল ভরতি করে চোখ বধ করে জলের ঝাপট (আস্তে আস্তে) মাঝে মাঝে নিলে চোখে আরাম বোধ হবে। চোখের জন্য সবজি বা ফল যেমন গাজর, পেঁপে, আপেল, টমেটো সজনে ডাটা, সজনে শাক, বিভিন্ন প্রকার শাকশব্জি ফলমূল খেতে হবে।