অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সুফল ও কুফল নিয়ে সেমিনার

0
1887

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ ধান, পান, আনাজ, সবজি, মাছ-সমস্ত চাষের ক্ষেত্রেই এন্টিবায়োটিক ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের সুফল কী এবং কুফলই বা কী।এই বিষয়ে আলোচনা শিবির অনুষ্ঠিত হল।রাজ্যের মৎস্য দফতরের উদ্যোগে পুর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার মৎস্যচাষি নিয়ে ওল্ড দিঘার পঞ্চায়েতিরাজ সভাকক্ষ্যে একদিনের জলকৃষিতে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের সুফল-কুফল বিষয়ে আলোচনা শিবির হল।বৃহস্পতিবার এই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন পুর্ব মেদিনীপুর জেলার মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ কর্মাধ্যক্ষ দেবব্রত দাস,রাজ্যের প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড:গদাধর দাস,রাজ্যের মৎস্য দফতরের সিআইএফই ড:বিজয় কালী মহাপাত্র,সিআইসিএফআরআই ড:সঞ্জীব মান্না,জেলার সহ মৎস্য অধিকর্তা রামকৃষ্ণ সর্দার,জেলার উপ মৎস্য অধিকর্তা কিশোর ধাড়া প্রমুখ।এ দিন প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড:গদাধর দাস বলেন,”জলকৃষির প্রসার ও উন্নতির সাথে সাথে বিভিন্ন প্রকার জীবাণু ঘটিত রোগ ও তার ফলে প্রাণীর মড়ক উৎপাদনের প্রতিবন্ধকতার কারন।সেই কারনে চাষি ও হ্যাচারী পরিচালকেরা রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা হিসাবে বিভিন্ন প্রকার জীবাণুনাশক ওষুধ প্রয়োগ করে।হ্যাচারী এবং বিজ্ঞানসম্মতভাবে পরিচালিত খামারে বিভিন্ন প্রকার এন্টিবায়োটিক ও রাসায়নিক ঘন ঘন ব্যবহার করা হয়,তুলনামূলকভাবে প্রথাগত এবং উন্নত প্রথাগত চাষে এইসব বস্তুর প্রয়োগ কম।”রাজ্যের সিআইএফই ড:বিজয়কালী মহাপাত্র বলেন,”প্রতিরোধ বা প্রতিকারের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক প্রায়শই জলজপ্রাণীর দেহে সঞ্চিত হয়।খাদ্যরুপে গৃহিত পেশী কোষে সঞ্চিত এন্টিবায়োটিক বিভিন্ন প্রকার শারীরিক অসুবিধার সৃষ্টি করতে পারে যেমন এলার্জি,বিষক্রিয়া,অন্ত্রে উপকারী জীবাণুর পরিবর্তন ও ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি।মানুষের খাদ্যে ক্লোরামফেনিকলের উপস্থিতি রক্তাল্পতা ঘটাতে পারে।এর ফলে অত্যন্ত খারাপ অস্থি-মজ্জার রোগ হতে পারে।নাইট্রোফুরান জাতীয় এন্টিবায়োটিক ক্যান্সার ও অন্যান্য রোগ ঘটাতে সমর্থ।সেই কারনে বেশীরভাগ আমদানিকারী দেশগুলি জলকৃষিতে ও হ্যাচারীতে বিশেষ- বিশেষ এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার সম্পুর্ণরুপে নিষিদ্ধ করেছে।আবার ভারতেও এই সমস্ত এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।এন্টিবায়োটিকের ব্যবহারের পরিমাণ যত বেশি হয় তত জীবাণুদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে থাকে।ফলে,প্রতিকারের প্রয়োজনে ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক কোন কাজে নাও লাগতে পারে।হ্যাচারীতে বহু প্রচলিত রীতি হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ের জন্য এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার।বিশেষত,যখন লার্ভার বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।অর্থাৎ হ্যাচারীতে ট্যাংকের বদ্ধ জলে লার্ভা ও পোষ্ট লার্ভার প্রতিপালন চলাকালীন জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে।এই প্রচলিত রীতি বদলানো যেতে পারে প্রোবায়োটিক ব্যবহারের মাধ্যমে।লার্ভার জন্য ব্যবহৃত জীবিত খাদ্যবস্তুর উৎকর্ষ বৃদ্ধির জন্য এন্টিবায়োটিকের ব্যবহারও কুফল হিসেবে দেখা দিতে পারে।এই সমস্ত ব্যবহারিক পদ্ধতির ফলে কৃষিজাত প্রাণীতে এন্টিবায়োটিকের অবশিষ্ট থাকতে পারে।জলকৃষি ক্রমাগত উন্নতি লাভ করে চলেছে।জলজাত খাদ্যের প্রধান উৎস হিসাবে এবং মানুষের খাদ্যবস্তু হিসাবে দেশীয় ও রপ্তানির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।জলকৃষির দ্বারা অব্যবহৃত ও অন্যান্য উৎসের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মের চাকুরীর সুযোগ ও লক্ষ লক্ষ লোকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হচ্ছে।বিগত দশকে অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক উদ্যোগে জলকৃষির ব্যাপ্তি ভারতে উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করেছে।এই অগ্রগতি বহুমুখী।বর্তমানে সমুদ্রজাত খাদ্য উৎপাদনে গুণগত এবং পরিমাণগত বৃদ্ধি হয়েছে।পাশাপাশি রপ্তানিও বেড়েছে।”এ দিন আলোচনা শিবিরে জেলার বিভিন্ন এলাকার পাঁচশতাধিক মৎস্যচাষি হাজির ছিলেন।