ছোঁয়াচে রোগ চিকেন পক্স-প্রকোপ বাড়ে এই সময়

0
102

ওয়েব ডেস্কঃ আমাদের দেশে সাধারনত শীতের পরে বসন্তের শুরুতে চিকেন-পক্সের খুব বেশি প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।অন্য সময়ে দেখা দিলেও আক্রান্তের হার তুলনামুলকভাবে অনেক কম।জলবসন্ত বা চিকেন পক্স একটি খুবই ছোঁয়াচে রোগ,ভেরিসেলা জোস্টার নামের ভাইরাস এর জন্য দায়ী। ছোটবড়,নারি-পুরুষ ভেদে সকল বয়েসিরাই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন,তবে শিশুদের মধ্যে আক্তান্তের হার বেশি হয়ে থাকে। একবার আক্রান্ত হলে সাধারণত শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে যায়। অনেক সময় পরবর্তীবার এ রোগের জীবাণুর আক্রমণে ‘হারপিজ জোসটার’ নামে আরেকটি রোগের প্রকাশ ঘটে থাকে।

  • কিভাবে ছড়ায় –কাশি-হাঁচি, এমনকি ত্বকের সংস্পর্শে এলেও অন্যরা এতে আক্রান্ত হতে পারে। রোগটি ছড়াতে শুরু করে ত্বকে গুটি দেখা দেওয়ার দুদিন আগে থেকেই। আর ছড়াতে থাকে যতদিন না সব কটি গুটি শুকিয়ে যায়। তাই আক্রান্ত রোগী অনেক সময় নিজে বুঝে ওঠার আগেই রোগ ছড়াতে থাকে।
  • লক্ষণ – আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসার ১০-২১ দিনের মধ্যে এ রোগের লক্ষন প্রকাশ পেয়ে থাকে। ত্বকে ফুস্কুড়ি প্রকাশ পাওয়ার ২-৩ দিন পূর্বেই জ্বরের ভাব হয়, শরীরে বেথা অনুভূত হয়ে থাকে। পেটে বেথা হতে পারে। ফুস্কুরিতে চুলকানি ও জ্বালা-পোড়া অনুভূতি হতে পারে। ফুস্কুরিতে পরবর্তীতে জল আসে এবং সবশেষে শুকনো কাল বর্ণের খোসা তৈরি হয়ে থাকে।এ রোগ এর স্থায়িত্ব ১৫-৩০ দিন হতে পারে।
  • চিকিৎসা – ভাইরাস জনিত রোগ বিধায় এ রোগের কোন চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না। সাবধানতা অবলম্বন করলে কদিন পর এমনিতেই ভাল হয়ে যায়। তবে লক্ষ্মণ অনুসারে রোগীকে সস্তি দেওয়ার জন্য চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন জ্বর ও চুলকানির তীব্রতা কমানোর জন্য অশুদ দেওয়া যেতে পারে।  রোগের তীব্রতার উপর ভিত্তি করে, অনেক সময় এনটি-ভাইরাল বা এনটি-বায়ওঁটিক ঔষধ দেওয়া হয়ে থাকে। 
  • জটিলতা- আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক সময় শ্বাসনালীর সংক্রামণ,পাতলা পায়খানা ইত্যাদি দেখা দিয়ে জীবনহানির কারন হতে পারে।

ত্বকে ব্যাকটেরিইয়া জনিত সংক্রামণ হতে পারে। সঙ্ক্রামন পরবর্তীতে ত্বকে গর্ত থেকে যেতে পারে।

প্রতিরোধ

  • আক্রান্ত রোগীকে পৃথক করার মাধ্যমে এ রোগের সংক্রামণ অনেকাংশেই কমানো যায়। 
  • শিশুকে এ রোগের প্রতিরোধক টিকা দিন।
  • আক্রান্ত রোগীকে প্রচুর জল ও পুষ্টিকর খাবার খেতে দিন।

ভূল ধারণা

  • জলবসন্তে বা চিকেন পক্সে মাছ-মাংস নিষেধ বলে ভুল ধারণা প্রচলিত আছে,বরং এগুলো বেশি খেতে দিন।
  • ত্বকের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। সম্ভব হলে প্রতিদিন স্নান করান।
  • ত্বকের ফুসকুড়ি খুঁটবেন না, এগুলো স্বাভাবিকভাবেই শুকাবে। হালকা আরামদায়ক সুতির কাপড় পরান।

শিশু,গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিক ও ক্যানসার রোগী এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, এমন রোগীর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নিন। এদের জলবসন্ত থেকে মারাত্মক নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতা হতে পারে,কাজেই আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।