তিন মাস বাদে ছেলে বাড়ি ফেরায় মুরগির মাংস ও আলুভাজা রান্না করে ভাত খেতে দিলেন মা

0
1915

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ তিনমাস পরে ছেলে বাড়ি ফিরেছে, আজকে অনেক দিন পরে নিজের হাতে ওকে রান্না করে খাওয়াতে পারছি, আমার আজকে অনেক আনন্দের সীমা নেই, ওর পছন্দের মুরগির ঝোল আর আলুভাজা রান্না করেছি। এক নাগাড়ে কথাগুলি বলে গেলেন বালিকা মাহাত। পিন্টু মাহাতোর মা। সদ্য কলকাতা ফুটবল লিগ জয় করা জঙ্গলমহলের ছেলেটি বৃহস্পতিবার চাঁদড়ার ঢড়রাশোলে নিজের বাড়িতে ফেরেন। গ্রামের ছেলে লিগ জয় করে তিনমাস পরে গ্রামে ফেরার জন্য গ্রামজুড়ে একপ্রকার উৎসবের মেজাজ। বাড়ি ফিরতেই গ্রামের বহুমানুষ এসে পিন্টুকে জড়িয়ে ধরে তাঁকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি ছিল ছবি, সেলফি তোলার হিড়িক। তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো হয় আশার আলো ক্লাবের পক্ষ থেকে লাজুক পিন্টু সবকিছুতেই যেন নির্লিপ্ত। বাড়িতে ফিরেই মাকে জড়িয়ে ধরেন এবং প্রণাম করেন। জল ভরা চোখে মা বালিকাদেবী পিন্টুর উদ্দেশে বলেন- ‘অনেকটা পথ এসেছিস, স্নান করে নে, খেতে দেবো। পিন্টুর জন্য কি রান্না হয়েছে আজ? বালিকাদেবী বললেন-‘তেমন কিছুই নয়, ও মুরগির মাংস খেতে পছন্দ করে তাই আজকে মুরগির মাংস রেঁধেছি, এক সপ্তাহ তো থাকবে, এরমধ্যে ও যা যা খেতে ভালোবাসে সবই রান্না করে খাওয়াবো । পিন্টু খেতে বসলে পাশে ঠায় বসেছিলেন মা, আর বারংবার জিজ্ঞেস করছিলেন-‘ আরেকটু ভাত দিই বাবা?’, ‘আর দুটুকরো মাংস খা’। ছেলে বারণ করলেও মা দিয়েই গেলেন । বলেন ‘আস্তে সুস্থে সবটা খা’। বিকেলে পিন্টু গেলেন গ্রামের ফুটবল মাঠে, নিজের ক্লাবে গ্রামের বিবেকানদ ক্লাবে। বন্ধুদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিলেন, গ্রামের কচিকাঁচাদের চাহিদা মেনে দেদার ছবি তুললেন, সেলফিও। ছুটির দিনে বিশ্রাম নিতে চান পিন্টু, কলকাতায় ফিরেই ফের ফুটবল অনুশীলনে যোগ দেবেন তিনি।

খোলামেলা ভাবেই পিন্টু জানালেন, আমার লক্ষ্য ভারতের হয়ে ফুটবল খেলা, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনুশীলনে ঘাটতি রাখতে চাই না। মাঠে একথা বলতে বলতে ওপাশে বেজে উঠলো পিন্টুর ফোন। অপ্রান্ত থেকে মায়ের প্রশ্ন- ;রাতে কি খাবি বাবা?’ তোমার যা ইচ্ছে তাই রান্না করো, বললেন পিন্টু।