শেষ হল বেলদা গঙ্গাধর একাডেমী-র শতবর্ষের সূচনা অনুষ্ঠান

0
338

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ তিনদিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হলো বৃহস্পতিবার। শতবর্ষের পথে বেলদা গঙ্গাধর একাডেমী। ১৯১৯ সালের ২ জানুয়ারি উদ্বোধন হয়েছিল বেলদার আজকের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মুগবেড়িয়ার জমিদার রায়সাহেব গঙ্গাধর নন্দ গড়ে তুলেছিলেন এই স্কুল। আজ শতবর্ষের পথে। কত স্মৃতি, কত কাহিনী, কত কঠিন পথ পেরিয়ে আজকের বিদ্যালয় সাফল্যের শিখরে। বৃহস্পতিবার স্কুলের শতবর্ষ পূর্তির সূচনা অনুষ্ঠানের ছিল শেষ দিন। এদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যান দপ্তরের মন্ত্রী চূড়ামনি মাহাত। একইসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগড় সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক মানিক সিংহ মহাপাত্র, বেলদা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রদীপ রথ, বেলদা ২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুলেখা দে, জেলা উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির সদস্য মিহির চন্দ, বেলদা প্রভাতী বালিকা বিদ্যাপীঠের পরিচালন সমিতির সভাপতি অরুণ দেব, স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও চিকিৎসক অংশুমান মিশ্র, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ননীগোপাল শীট, বিজন ষড়ঙ্গী সহ অন্যান্যরা।

প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় শেষ দিনের অনুষ্ঠান। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যান দপ্তরের মন্ত্রী চূড়ামনি মাহাত স্কুলের হস্টেলের উন্নয়নে সাহায্যের কথা ব্যক্ত করেন। এস সি, এস টি ছেলেমেয়েরা আরও বেশি সংখ্যায় যাতে এখানে থেকে পড়াশুনো করতে পারে তার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্কুলের খেলার মাঠের সংস্কারের আশ্বাস পেয়ে কার্যত খুশি স্কুল কর্তৃপক্ষ।

বেলদা গঙ্গাধর একাডেমী স্কুল আগামী ২০১৯ সালে পূর্ণ করবে তার শতবর্ষ। স্বাধীনতার আগে থেকে পঠনপাঠন চলে আসছে এই স্কুলে। পুরনো বিল্ডিং এখন আর নেই। নতুন ঝাঁ চকচকে স্কুলের দেওয়ালে দেওয়ালে আজ কত স্মৃতি। সেই স্মৃতির কোলাজ তুলে ধরা হয়েছে চিত্র প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে। নাম দেওয়া হয়েছে -“বিদ্যালয়ের সেকাল”, “বিদ্যালয়ের একাল”।
শতবর্ষ পূর্তির সূচনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্কুলটিকে নতুন করে সাজানো হয়েছিল। স্কুল চত্বর জুড়ে মনীষীদের ছবি। সেখানে বিদ্যাসাগর থেকে কবি রবীন্দ্রনাথ,নজরুল থেকে স্বামী বিবেকানন্দ। রাতে নানা রঙের আলোয় সেজে উঠেছিল স্কুল। তিনদিন ধরে নতুন- পুরাতন ছাত্রছাত্রী সহ অভিভাবক অভিভাবিকা ও বিশিষ্ট মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছিলেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, বুধবার উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

বেলদা গঙ্গাধর একাডেমী স্কুলের প্রধানশিক্ষক ও শতবর্ষ উদযাপন কমিটি সম্পাদক ননীগোপাল শীট বলেন- “স্কুলের জন্য হয়তো অনেক কিছুই করেছি। আবার অনেক কিছুই করতে পারিনি। তার জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থী। না পারার মধ্যে থেকে গেল স্কুলের খেলার মাঠ। স্কুলের খেলার মাঠ তেমন ব্যবহারের উপযোগী নয়, আবার নিরাপত্তাহীনও। কোনও বাউন্ডারি ওয়াল নেই। তাই রাতে দিনে বহিরাগতদের যাতায়াত চলে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্য চাই”। তিনি আরও বলেন -“আগামী ২০১৯-এ আমি প্রাক্তন হয়ে যাবো। অবসরের আগে শতবর্ষ পূর্তির সূচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পেরে আমি আনন্দিত”।