একই স্বর

0
10
Advertisement
৩০ তম বর্ষ, ৯৭ সংখ্যা, ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ২৭ কার্ত্তিক ১৪২৪
বামফ্রন্ট জমানার সরকারের মতোই বর্তমান রাজ্য সরকারেরও কর্মসংস্কৃতি নিয়ে হুঁশিয়ারি অব্যাহত। বাম আমলে মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুও সরকারি অফিসে কর্মসংস্কৃতির মানোন্নয়নে সবাইকে উদ্যোগী হতে পরামর্শ দিতেন। তাঁর সরকার কাজকর্মের জন্য বারংবার সার্কুলার জারি করতেন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্যের সরকারের সময় তাঁর শ্লোগানই ছিল ‘ডু ইট নাও’। একবার তো জ্যোতিবাবু সক্ষোভে বলেই দিয়েছিলেন- কাকে কাজ করতে বলবো, চেয়ার টেবিলকে? তা ৩৪ বছরের বাম জমানার স্বর একই ভাবে এখন অন্যের গলায় শ্রুত হচ্ছে। কাজে ফাঁকি দিলে বদলি করে দেওয়ার মতো শাস্তির কথা বলা হচ্ছে। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অনেক শিক্ষকই কাজে ফাঁকি দিচ্ছেন। আবার অনেককে দিয়ে কাজ হচ্ছে না। এই ধরনের শিক্ষকদের আগে বোঝানো হবে এবং তাতে কাজ না হলে দূরের জেলায় বদলি করে দেওয়া হবে। যদিও শিক্ষামন্ত্রীর এমন কথায় শিক্ষামহ্লে প্রশ্ন উঠেছে কারা যোগ্য শিক্ষক কারা অযোগ্য শিক্ষক তা কোন নিরিখে মাপা হবে? যাঁদের হাতে যোগ্যতা মাপার দায়িত্ব দেওয়া হবে তাঁদেরই যোগ্যতা রয়েছে কিনা তা কে মাপবে? না কেবল সাধারণ শিক্ষকদের জন্য শিক্ষামন্ত্রী মশাওইয়ের এমন ফরমান জারি না, অধ্যক্ষদের সভায় তাঁদেরও উদ্দেশে জানিয়ে দিয়েছেন তাঁদেরও ঠিকমতো কাজ করতে হবে। কলেজ বহিরাগতদের ঢোকা বন্ধ করতে হবে, নির্ধারিত আসনের বেশি আসনে ভর্তির ক্ষেত্রে আপস করা চলবে না। যদি তা ধরা পড়ে তবে অধ্যক্ষদেরো শাস্তির মুখে পড়তে হবে। তা ঠিকই বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। যার যা দায়িত্ব তাঁকে সঠিকভাবে তা পালন করতে হবে। যদি কেউ না করে তাতে ফাঁকি দেন সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই পারেন। তবে প্রশ্ন যেটা তা হল এমনতর হুঁশিয়ারি তো সেই করে থেকেই শুনে আসছে বঙ্গবাসী। বাম জমানায় তো দিস্তার পর দিস্তা কাগজ নষ্ট হয়েছে সরকারি কর্মচারীদের বাগে আনতে সার্কুলার তৈরির জন্য। তাতে কোনও কাজ হয়নি। এখনও যে হবে তার নিশ্চয়তা কোথায়। শিক্ষকদের মধ্যে যাঁরা কাজে ফাঁকি দেন তাঁরা শাসক দলের অনুগামী হলে তাঁদেরও শাস্তি দেওয়া হবে তো? বঙ্গবাসীড় অভিজ্ঞতা বড়ই তিক্ত। সুতরাং সরকার যখন সমস্ত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শূন্যপদ পূরণ করতেই পারেনি তখন পার্থবাবুর এমন হুঁশিয়ারির মূল্য কতখানি সেই নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
Advertisement