সবংয়ের উপনির্বাচন, সব দলের পরীক্ষা

0
12

৩০ তম বর্ষ, ১১২ সংখ্যা, ২৯ নভেম্বর ২০১৭, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

পঞ্চায়েত ভোটের আগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার রাজনৈতিক ময়দানে সব দল আরও একটি উপ-নির্বাচনের জন্য গা ঘামানোর সুযোগ পেয়েছে। খেলা ২১ ডিসেম্বর, এখন থেকে শুরু হচ্ছে ওয়ার্ম আপ। এই উপ-নির্বাচন হচ্ছে সবং বিধানসভা কেন্দ্রে। যে কেন্দ্রের নির্বাচনে এবার বাম প্রার্থী রীতা মণ্ডল জানা এবং শাসক দলের প্রার্থী গীতা ভূঁঞ্যা। যিনি সাংসদ মানস ভূঁঞ্যার স্ত্রী। বিজেপিও প্রার্থী দিচ্ছে, থাকছে কংগ্রেসেরও প্রার্থী। মূলত চতুর্মূখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা। একটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচান হলে কী হবে তার আঁচ যে খুব একটা কম হবে না তা এখন থেকেই বোঝা যাচ্ছে। তার কারণও রয়েছে। যেভাবে জেলায় জেলায় সিপিএম-কংগ্রেসকে টপকে বিজেপি রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছানোর মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছে, তাতে করে শাসক দলেরও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাসক দল তৃণমূলের কাছে এখন সিপিএম, কংগ্রেস নয়, বিজেপিকেই এখন প্রধান রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে গণ্য করছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেভাবে প্রতিটি সভায় বিজেপিকেই প্রধান টার্গেট করে মমতা সোচ্চার হচ্ছেন, বিজেপি দলের সমালোচনা করছেন, কেন্দ্রে তাদের সরকারের সমালোচনায় মুখর হচ্ছেন, তাতে বোঝা যায়, সিপিএম-কংগ্রেস এখন পিছনের সারিতে, তাদের আগে বিজেপি । অবশ্য তার কারণও রয়েছে। বিগত কয়কটি উপনির্বাচনে বিজেপি তাদের শক্তির জানান দিয়েছে। কোথাও কোথাও দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল ঘাঁটিতে কোনও রকম শক্ত সাংগঠনিক পরিকাঠামো না থাকা সত্বেও কাঁথি দক্ষিন বিধান্সভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে সবাইকে চমকে দিয়ে বিজেপি ভোট প্রাপ্তির নিরিখে বাম ও কংগ্রেসকে অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছে। সুতরাং এই প্রেক্ষিতে সামনে যেখানে পঞ্চায়েত ভোট সেখানে এই সবং বিধানসভা কেন্দ্রে উপ-নির্বাচনের গুরুত্বই বা কম কিসে। যদি সবাইকে চমকে দিয়ে পূর্বের নির্বাচনের চেয়ে ভোট বাড়িয়ে নেয়-তখন সেটা মমতার কাছে আরও গাত্রদাহের কারণ হয়ে উঠবে। আরও স্বখাত সলিলে পড়বে সূর্যকান্ত মিশ্র ও অধীর চৌধুরীদের দল। সুতরাং এই ভোট নিয়ে সব দলই এখন ত্রস্ত। কোনও দলই সবংয়ে জিততে কোনও ফাঁকফোকর রাখতে চাইবে না। কে কাকে প্রার্থী করবে সেটা তাদের সলীয় বিষ্য। মূল লক্ষ্য দলীয় প্রতীক নিয়ে কোন দলের প্রার্থী লড়ছে, কোন দলের প্রতি মানুষের আস্থা বেশি তারই পরীক্ষ আহয়ে যাবে। পঞ্চায়েত ভোটের আগে সব দল জানতে পারবে তাদের সলীয় ভিত কোন স্তরে রয়েছে। তাছাড়াও সবং বিধানসভা কেন্দ্রের মাটি দীর্ঘদিন ছিল কংগ্রেসের। কিন্তু ৬ বারের কংগ্রেস বিধায়ক এখন তৃণমূলে। তাই এবার মানুষের রায় কী হয় সেটাও যথেষ্ট ঔৎসুক্যের বিষয়।