ত্রিপুরায় হিংসার রাজনীতি

0
472
৩০ তম বর্ষ, ২১১ সংখ্যা, ৯ মার্চ ২০১৮, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৪

দেশে কী মূর্তি ভাঙার রাজনীতি চলছে? ত্রিপুরার নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর যেভাবে যেখানে সেখানে লেলিনের মূর্তি বুলডোজার দিয়ে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে তা কী কোনও সভ্য গণতান্ত্রিক দেশের নমুনা হতে পারে? দু’দশকের বেশি ক্ষমতায় থাকার পর সিপিএম পরাভূত হয়েছে, বিজেপি সরকার গড়ছে এর মধ্যে অস্বাভাবিকতা কোথায়? এটাই তো গণতন্ত্র। সিপিএমের একচেটিয়া দীর্ঘ ক্ষমতার অবসান ঘটে এই পশ্চিমবঙ্গেও। কংগ্রেসও সেই স্বাধীনতার পর থেকে কেন্দ্রে ও রাজ্যে রাজ্যে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকার পর এক সময় গণতন্ত্রের নিয়মেই কী কেন্দ্রে, কী রাজ্যে রাজ্যে পতন ঘটেছে তাদের। জন্ম নিয়েছে নানা আঞ্চলিক দল, যাদের কাছে কংগ্রেসকে হার মানতে হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা অতি মহান বলেই তো এই জয়-পরাজয়ের এত মাহাত্ম্য। দীর্ঘকাল বা স্বল্পকাল ক্ষমতায় থাকার পর নির্বাচনে জনগণ যে দলকে বেছে নেন তাঁরাই পরবর্তী সরকারে আসে। এই যদি গণতন্ত্রের নিয়ম হয় তবে কেন কোনও রাজ্যে এক দল ক্ষমতা থেকে চেলে গেলে তাদের উপর হামলা হবে? কেন বিজয়ী দল গণতন্ত্রের মন্ত্রী হবে আবার পরাজিত দলের নেতা কর্মীদের উপর অত্যাচারের রোলার চালাবে? এমন ফ্যাসিবাদী হিংসা কোন ধরনের গণতন্ত্র? ত্রিপুরায় যেভাবে ক্ষমাতা বদলের পরই লেলিনের মূর্তি প্রকাশ্য দিবালোকে একেবারে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হ’ল সেটা কী কোনও গণতান্ত্রিক দলের লোকজন করতে পারে? সিপিএম তো এক্ষেত্রে বিজেপিকেই অভিযুক্ত করেছে। বিজেপির লোকজন বিশেষত আর এস এস এর সদস্যরাই নাকি এই জঘন্য কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কোন বিজেপি? যে বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় রয়েছে। যে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতার কুর্সিতে বসার পর ‘আচ্ছে দিন’-এর স্বপ্ন দেখিয়েছেন দেশবাসীকে। নব্য ভারত গঠনের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাঁর দলের লোকজন যদি এইভাবে লেলিনের মূর্তি ভেঙে গুঁড়ীয়ে দিতে পারে তাহলে কাদের নিয়ে তিনি ‘আচ্ছে দিন’ আনবেন? দলের নেতা বা কর্মী বা সমর্থকরা এমন উচ্ছৃঙ্খল হয় তবে কখনও গণতান্ত্রেক শাসক প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব? ত্রিপুরার মূর্তি ভাঙার হিংসা অন্যান্য রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি ভেঙে দেওয়া হয়েছে কলকাতায়, এরকম তো চলতেই থাকবে। শুধু তাই নয় ত্রিপুরায় নাকি সিপিএমের অনেক পার্টি অফিস ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চলছে, এটা কী গণতন্ত্র? কেবল প্রকাশ কারাত, সীতারাম ইয়েচুরিরা নয়, সিপিএম-বিরোধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ভাবে মূর্তি ভাঙার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিপদ বুঝে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এইসব ঘটনার নিন্দা করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নিদান দিয়েছেন। প্রশ্ন হল এটা কার্যকরী হবে তো? এইভাবে হিংসা ছড়ানোর জন্য দায়ী যারা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তো? দেখাই যাক। গণতন্ত্র এবার কোন পথে চলে।