সামনে পঞ্চায়েত ভোট, সক্রিয় মুখ্যমন্ত্রী

0
9

৩০তম বর্ষ, ১০৮ সংখ্যা, ২৫ নভেম্বর, ৮ অগ্রহায়ণ

সামনে পঞ্চায়েত ভোট তাই মস্ত চ্যালেঞ্জ তাঁর। তিনি কেবল রাজ্যের পয়লা নম্বর প্রশাসনিক প্রধানই শুধু নন, তিনি তাঁর দলের সভানেত্রীও। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম লড়াইয়ের পথ ধরেই তিনি ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়েছেন। সেই বামেরা এখন অনেকখানিই নিষ্প্রভ। বরং প্রধান বাম দল সিপিএমকে টপকে যেতে ময়দানে আবির্ভূত বিজেপি। হ্যাঁ ব্লতে গেলে বিজেপিই একরকম প্রধান বিরোধী দলের শিরোপা পাওয়ার দৌড় শুরু করেছে। অবশ্য তাদের প্রচেষ্টা অনেকখানি সফল হয়ে উঠেছে তার প্রমান বিভিন্ন স্তরের উপ-নির্বাচনের ফলাফল। যে ফলাফল প্রমাণ করছে নরেন্দ্র মোদীর দল এখন এরাজ্যে কংগ্রেস এবং সিপিএমকে টপকে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছে। কোচ বিহার ও পূর্ব মেদিনীপুরের একটি লোকসভা ও একটি বিধান্সভা কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনের ফল পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস সিপিএম ডুবছে, এবার উঠছে বিজেপি। দক্ষিণ কাঁথি বিধান্সভা কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনে তা শাসক দলের পরেই বিজেপি দু’নম্বর স্থানে পৌছে যায় ! বাম সমর্থিত সিপিআই প্রার্থী যখন ১০ শতাংশ এবং কংগ্রেস প্রার্থী মাত্র ১.৩৩ শতাংশ ভোট পান, সেখানে বিজেপি প্রার্থী পেয়েছিলেন একেবারে ৩০.৯৭ শতাংশ। আগের নির্বাচনে অর্থাৎ ১০ মাস আগে ২০১৬ তে বিজেপির ভোট প্রাপ্তি ছিল ৮.৭ শতাংশ। অর্থাৎ ১০ মাসেই ২৩ শতাংশ ভোট বৃদ্ধি ঘটেছে বিজেপির। কংগ্রেসের তো জামানত জব্দ হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে এই কেন্দ্রটি তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা শিশির অধিকারী ও শুভেন্দুর খাস তালুক। এই জায়গায় হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির এমন উত্তরণ শাসক দলের কাছেও বিড়ম্বনার বিষয় বৈকি। এ তো গেল একটি বিধানসভা কেন্দ্রের হিসেব। এর সঙ্গে কোচবিহারের এক লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ছাড়াও বিভিন্ন পুরসভার নির্বাচনেও বিজেপির অগ্রগতি ধরা পড়েছে। স্বভাবতই তাদের উৎফুল্লতা যথেষ্ট শিরঃপীড়ার কারণ শাসক দলের । তাই অনেক আগে থেকেই মামতা বন্দ্যোপাধ্যায় সচেতনভাবেই দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে সামনের পঞ্চায়েত ভোটের জোর প্রস্তুতির নিদান দিয়েছেন । এর মধ্যে তাঁর দলের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা মুকুল রায় দল ছেড়ে বিজেপি শিবিরে চলে গিয়েছেন। তাঁর ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ যাতে তাঁর দলের কোনও ক্ষতি করতে না পারে সে ব্যাপারে মমতা যথেষ্ট সতর্ক রয়েছেন। আগামী কয়েক মাস তিনি জেলায় জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক ও পাশাপাশি সভা করে সরকার ও দলকে পোক্ত করে তোলার কাজে নেমে পড়বেন। এর মূল কারণ যে পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে দলকে আরও সুসংগঠিত করে তোলা তাতে সন্দেহ নেই। এতদিন পঞ্চায়েতের প্রচারে থাকতেন তাঁর প্রধান পার্ষদ মুকুল। এবার প্রধান দায়িত্ব তাঁরই। এ-ও ঠিক দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রেক্ষিতে দল দুর্বল হয়ে উঠেছে। এর সুযোগ নিতে বিজেপি তৎপর । তাই সাবধানী পা মমতার। তিনিই দল ও সরকারের প্রধান মুখ। তাই পঞ্চায়েতে দলকে বড় সড় সাফল্য এনে দেওয়ার প্রধান দায়িত্ব তারই ।