মুকুলের গতিপথ

0
29

৩০ তম বর্ষ, ৫৭ সংখ্যা, ৪ অক্টোবর ২০১৭, ১৭ আশ্বিন ১৪২৪

মুকুল রায়ের দলত্যাগ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এখন নানা গুঞ্জন, নানা জল্পনা। মুকুল নিজে দল গড়বেন, না বিজেপিতে যোগদান করবেন, মূলত গুঞ্জন এই নিয়েই যদিও যাঁকে নিয়ে এত সমালোচনা, সেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন লক্ষীপুজর পরই তাঁর নিজের সিদ্ধান্তের কথা নানাবেন তিনি। অবশ্য মুকুল নিজে দল থেকে ক্রমশ দূরত্ব বাড়ালেও দলত্যাগ করার কথা মুখে জানান নি। তিনি কেবল বলেছিলেন দলের কর্মসমিতির সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। পুজো ফুরোলে তিনি প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ করবেন। অবশ্য একথা বলার পর দল অবশ্য থেমে থাকে নি। মুকুল রায়কে ছ’বছরের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করার দলীয় সিদ্ধানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এরপর মুকুল রায় কী বলবেন, কী করবেন সেই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত। যদিও হয়ত দুটি রাজনৈতিক মহলে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত। যদিও হয়ত দুটি পথের যে কোনও একটিকে বেছে নেবেন মুকুল। নিজের দল, কিংবা যাই করুন, তাঁর এতদিনের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে তৃণমূলের কতখানি ক্ষতিসাধন করতে সমর্থ হবেন। যদিও বাস্তব ঘটনা হল মুকুল রায় আর যাই হোক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন। এতদিন তাঁকে স্বাধীনতা দিয়ে মমতাই দলের সাংঠনিক কাজের প্রধান দ্বায়িত্ব দিয়েছিলেন। এমনকি দীর্ঘকাল দলে মমতার পরেই স্থান ছিল মুকুলের। রাজ্যের সমস্ত জেলায় দলের শ্রীবৃদ্ধি, গোলমাল নিরসন, ভোট পর্ব পরিচালনা প্রভৃতি সব কাজেই দলনেত্রীর নির্দেশমতো মুকুল কাজ করে গিয়েছেন এবং দলের সমীহও কুড়িয়েছেন। কিন্তু সেই মুকুল রায়ই যখন দলের বিরুদ্ধাচরণ করতে শুরু করলেন, বিজেপির সঙ্গে ক্রমশ গোপন সম্পর্ক রাখতে শুরু করলেন, তখন সেটা দলনেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে মেন নেওয়া কখনই সম্ভব নয়। তাঁরই দলের প্রশয়ে নেতা হিসেবে উঠে এসে এখন যদি তা অস্বীকার করেন রাজ্যের মানুষ তাকে কী চোখে দেখবেন তা বোঝাই যাচ্ছে। মুকুল রায় যতই তৃণমূলের অবহাওয়ায় সংগঠক হিসেবে স্বীকৃতি পান, তিনি মমতার মতো জনপ্রিয় নন। রাজ্যের মানুষ, গোটা দেশের মানুষ জানে, মমতার দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই সংগ্রামের কথা। উত্তরণের কথা। সেখানে মুকুল তাঁর অনুগামীকে মুকুল সঙ্গে পাবেন। যে দলেই যান তিনি সেখানে কিছু লোক তিনি পেতে পারে, কিন্তু মমতার সাম্রাজ্যে ভাঙন ধরিয়ে মুকুল রায় বাজিমাত করতে পারবেন কী? সন্দেহ থেকেই যায়।