গ্রামাঞ্চলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা

0
547
৩০ তম বর্ষ, ১৯৮ সংখ্যা, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ১১ ফাল্গুন ১৪২৮

নিঃসন্দেহে রাজ্য সরকারের বড় পদক্ষেপ। বাস্তবোচিত সিদ্ধান্ত। যা বামফ্রন্টের দীর্ঘ জমানাতেই করা উচিত ছিল। সেটি হল প্রতিটি পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে প্রাথমিকভাবে অগ্নিনির্বাপণ করার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এজন্য রাজ্যের অগ্নিনির্বাপণ দফতর রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিকে অগ্নিনির্বাপণের জন্য তাদের কী কী সরঞ্জাম প্রয়োজন তার তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু পঞ্চায়েত স্তরেরি নয়, গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন ক্লাবকেও অগ্নিনির্বাপণের সরঞ্জাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এমনকি গ্রামে গ্রামে এই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। অগ্নিনির্বাপণ দফতরের লক্ষ্য হল যেখানেই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটুক সেখানে প্রথমেই দ্রুত আগুন নিভিয়ে দেওয়া। প্রাথমিক ভাবে গ্রামের মানুষজন এবং স্থানীয় ক্লাব থাকলে তার সদস্যরা সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে আগুন নেভাতে পারবে। দমকল বাহিনী যাওয়ার আগেই যদি আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়ে যায়, আগুন কম হলে তা যাতে সহজে নিভিয়ে ফেলা যায় সেটাই লক্ষ্য রাজ্য সরকারের। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের । ঘরে কিংবা ধানের গোলা এবং গাদায় আগুন  লেগে সব ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ার ঘটনা ভূরি ভূরি। দমকলে খবর গেলেও দূরত্বের কারণে দমকল পৌঁছানোর আগেই যা সর্বনাশ হওয়ার ঘটে যায়। সর্বস্ব হারিয়ে গৃহস্থকে পথে বসতে হয়। অথচ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রুখতে ভরসা কেবল শহরাঞ্চলে থাকা দমকল বাহিনী। কিন্তু তা দিয়ে কখনই আগুন ঠেকানো সম্ভব হয় না। অথচ এব্যাপারে দীর্ঘ বাম জমানায় কোনও উদ্যোগই গ্রহন করা হয়নি। কেবল দমকল নয়, একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নি কখনই । দীর্ঘ বাম জমানার এই ব্যররথতা ঢাকতে এখন উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের অগ্নিনির্বাপণ দফতর চাইছে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির হাতে অগ্নিনির্বাপণের প্রাথমিক পরিকাঠামোর জন্য সমস্ত সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে। সবার কাছে তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে আগূন নেভানোর জন্য কী কী সরঞ্জাম লাগবে। এবং একই সঙ্গে যেসব গ্রাম অগ্নি কাণ্ডপ্রবণ, সেইসব গ্রামে অগ্নিনির্বাপণ দল গঠন করা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি প্রধান আমাদের রাজ্যে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বহুটাকার ফসর পুড়া ছাই হয়ে যায়। ঘরবাড়িতে আগুন লেগেও সর্বনাশ ঘটে যায়। তাই এই ব্যবস্থা ফলপ্রসূ হলে তাতে গ্রামের মানুষজন খুবই উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে ব্লক স্তরে বা পঞ্চায়েত স্তরে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গড়ে তোলার দিকটিতেও রাজ্য সরকারের নজর দেওয়া জরুরি। এমনকী ব্লক স্তরে দমকল কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়টিও ভেবে দেখা জরুরী রাজ্য সরকারের।