মোদী, না রাহুল

0
54

৩০ তম বর্ষ, ৯৫ সংখ্যা, ১২ নভেম্বর ২০১৭, ২৫ কার্তিক ১৪২৪

এক একটি নির্বাচন আসে আর সব দলের পরীক্ষা হয়ে যায়। কোন দলের জনসমর্থন কতটা তার প্রমাণ মেলে ওই সব নির্বাচনে। তা সে লোকসভার ভোটি হোক, বা বিধানসভার ভোট বা পঞ্চায়েত, পুরসভার ভোটই হোক। তবে এটা ঠিক, সব নির্বাচনই গুরুত্বপূর্ণ। সদ্য বিধানসভার ভোট হয়ে গেল হিমাচল প্রদেশে। যে রাজ্যের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী থেকে রাহুল গান্ধী সবাই দলের হয়ে চুটিয়ে প্রচার করেছেন। বলা বাহুল্য ৬৮টি আসন বিশিষ্ট রাজ্যের এবারের নির্বাচনেও মূল লড়াই কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। বলতে গেলে নরেন্দ্র মোদী ও রাহুল গান্ধীর মধ্যে কে এগিয়ে তার লড়াই। মোদী প্রধা্নমন্ত্রী আর রাহুল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি। প্রতি পাঁচ বছর ছাড়া এরাজ্যে ক্ষমতা বদল হয়।  এতদিন সরকারে ছিল কংগ্রেস। তবে কী এবার বিজেপির পালা? এই নিয়ে তামাম ভারবর্ষের রাজনীতি রীতিমতো আলোড়িত। পাহাড়ের কোলে ৬৮ আসনের ছোট্ট রাজ্য। কিন্তু সে রাজ্যের নির্বাচনে এমনতর আলোড়ন কেন? তার কারণ হ’ল এমন এক সময় হিমাচল প্রদেশের ভোট হয়ে গেল যখন কেন্দ্রের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে নোট বাতিল ও জিএস্টি নীতির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী একটা ক্ষোভের বাতাবরণ দেখা দিয়েছে। ৯ নভেম্বর ভোট হ’ল আর আগের দিন অর্থাৎ নোটবন্দির বছর পূর্তির দিন দেশব্যাপী কংগেস সহ প্রায় সমস্ত বিরোধী দল এই দুই ইস্যুতে প্রতিবাদী আন্দোলনে সামিল হ’ল। নোটবন্দির ফলে যেমন অর্থনীতির ক্ষতি, কৃষকদের ক্ষতি, কর্মসংস্থানের ক্ষতি এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে, তেমনই জিএসটি চালু হওয়ার ফলে মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ভয়ঙ্কর বিপদে পড়ে গিয়েছেন। এই নিয়েও বিরোধীদের প্রতিবাদী আন্দোলন তুঙ্গে উঠেছে। প্রশ্ন হ’ল এই ক্ষোভের আঁচকে কাজে লাগিয়ে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস কতখানি হিমাচল প্রদেশ বা গুজরাতের নির্বাচনে কাজে লাগাতে পারবে। সুতরাং এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই হিমাচল প্রদেশ ও আগামী ডিসেম্বরে গুজরাতের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সব দলের কাছেই। বিশেষত মোদীর কাছে এই দুই রাজ্যের নির্বাচন এক অগ্নিপরীক্ষা। দল জিতলে যেমন বিরোধীদের যাবতীয় অভিযোগ অসারতা প্রমাণ করে ছাড়বেন তিনি, তেমনই হারলে রাহুল গান্ধীদের প্রতিবাদ আন্দোলনের বাস্তবতা প্রমাণ হবে। কাজেই অপেক্ষা এখন।