মমতা-রাহুল নীরবতা

0
13
৩০তম বর্ষ, ১৪৩ সংখ্যা, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৫ পৌষ ১৪২৪

গুজরাত বিধানসভার নির্বাচনের ফলাফল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বস্তি দিয়েছে অনেক। বিজেপি জিতলেও আসন এবং ভোট সংখ্যা কমে যাওয়ায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়াই ছিল জিতলেও ওটা বিজেপির নৈতিক পরাজয়। নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় এবং সেখানে কংগ্রেসের ভোট ও আসন বেড়ে যাওয়ায় তৃণমূল কংরেস নেত্রী তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে স্বস্তি আসাটা স্বাভাবিক। কারণ বিজেপিই তো তাঁর কাছে প্রধান রাজনৈতিক শত্রুপক্ষ। এই রাজ্যও প্রধান প্রতিদ্বন্ধী দল হিসেবে সিপিএম, কংগ্রেস নয়, বিজেপিকেই তিনি সমালোচনার প্রথম টার্গেট করেছেন । প্রতিটি সভায় কংগ্রেস-সিপিএমের সমালোচনায় যতটা বাক্য ব্যয় করেন তার চেয়ে বেশি ব্যয় করেন বিজেপিকে নিয়ে। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রেও নোটবন্দি, জি এস টি প্রভৃতি ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের সমালোচনায় সভা করেছেন। সুতরাং বিজেপির যে কোনও দুর্বলতা প্রকাশ পেলে তাতে মমতার স্বস্তি হওয়ারই কথা। তাই বিজেপি গুজরাতে সরকার গড়তে পাওরলেও দলের ভোট আসন কমে যাওয়ায় মমতা খুবই খুশি। কিন্তু বিজেপির ফল কিছুটা খারাপ হলেও কংগ্রেসের ভোট ও আসন বেড়েছে যখন, তখন তাতে কী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুশি হয়েছেন ? রাজনৈতিক মহলের ব্যখ্যা মমতা মনে মনে খুশি কিনা জানা যায় নি যেমন সত্যি, আবার এ-ও সত্যি কংগ্রেসের কিছুটা উজ্জীবনে তিনি খুশি হয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে ফোনও করেননি। গুজরাতের ফল বের হওয়ার বেশ কয়েক দিন পর্যন্ত মমতার উচ্চবাচ্য না দেখে অনেকেরই এখন প্রশ্ন, তবে কী রাহুল সভাপতি হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে মমতার সম্পর্ক খারাপ হয়ে উঠেছে ? যেখানে কংগ্রেস এই সেদিনও নোটবন্দী ইস্যুতে বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে নামল একসঙ্গে বৈঠোক করলেন, বিরোধী জোট নিয়ে কৌশল নিয়ে আলোচনা সারলেন তখন কী এমন হ’ল রাহুল সভাপতি হওয়ার পর যেমন তাঁকে ফোন করে অভিনন্দন জানাননি, বা গুজরাতে ভাল ফল করার পরেও মমতা নীরব রইলেন। রাহুল-মমতার এহেন নীরবতা নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে। হয়তো হতে পারে মমতা চাইছেন না বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করতে। কারণ তাতে সংখ্যালঘু ভোটে কংগ্রেস ভাগ বসাতে পারে। এবং এ রাজ্যে খাদের কিনারায় থাকা কংগ্রেস তাদের ভোট ব্যাঙ্ক বাড়িয়ে নিতে পারে তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্ক থেকে কেটে নিতে। আবার এমনও হতে পারে বিজেপি বিরোধী জোটে রাহুল-মমতার এই ‘শীতল’ সম্পর্ক নিয়ে একটি প্রশ্ন দেখা দিতে বাধ্য তা হল কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে কী কেন্দ্রে শক্তিশালী বিরোধী জোট গড়তে পারবেন মমতারা? প্রশ্ন অনেক, তবে উত্তর মিলবে সময়েই ।