কর্ণাটকীয় নাটক

0
2082

৩০ তম বর্ষ, ২৮৭ সংখ্যা, ২৪মে ২০১৮, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

নিখুঁত ছক করেছিলেন সনিয়া গান্ধী। কর্ণাটকে দলমত কী হবে সেই নিয়ে কী বিজেপি, কী কংগ্রেস এই দুই প্রধান প্রতিপক্ষই রীতিমতো উদ্বেগে ছিল। কংগ্রেসের কাছে ছিল কর্ণাটকে তাদের বিগত পাঁচ বছরের জমানা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ। আর বিজেপির লক্ষ ছিল দক্ষিণের এই রাজ্যেও পদ্মফুল ফোটানো। যদিও কর্ণাটক এমন একটি রাজ্য যেখানে বিগত বহুবছর ধরেই একটান পাঁচ বছরের পর ক্ষমতাসীন দলের পরিবর্তন ঘটে। সেই অঙ্ক মাথায় রেখে নরেন্দ্র মোদী অমিত শাহরা ভেবেছিলেন কর্ণাটক এবার তাদের দখলেই আসবে। একদিকে মোদি-অন্যদিকে রাহুল গান্ধী দু’পক্ষের প্রচারের মাত্রা তুঙ্গে উঠেছিল। তবে জয় নিয়ে দু’পক্ষের টাগ্‌ অব্‌ ওয়ার যাই হোক না কেন, মাঝে কিন্তু জেডিএস অর্থাৎ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়ার দলও কিন্তু প্রচারে খামতি না রেখে সুযোগের অপেক্ষায় তাল ঠুকছিল। সমস্ত ভোট পরবর্তী সমীক্ষাতেই অবশ্য ত্রিশঙ্কু ফলের ইঙ্গিত মিলেছিল। এবং এ ও বলা হয়েছিল সরকার বিজেপি বা কংগ্রেস যেই গড়ুক তার জন্য সমর্থন দরকার হবে জেডিএস-র। দেবেগৌড়ার দলই নির্ণায়ক ফ্যাক্টর হবে। হ্যাঁ, সমীক্ষার ফল যে এভাবে মিলে যাবে এবং ২২২টি আসন বিশিষ্ট কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ৩৮টি আসন পেয়ে কংগ্রেসের সমর্থনে জেডিএস সরকার গড়ার যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হবে দেবেগৌড়া পুত্র কুমার স্বামী তা তাঁরাও হয়তো ভাবতে পারেন নি। সেজন্য অবশ্য অনেক লড়াই করতে হ’ল। সনিয়া গান্ধী রাহুল গান্ধীর কুটকৌশলে মাত্র ১০৪টি আসন পেয়ে সংখ্যা গরিষ্ঠতা না থাকা সত্বেও বিজেপির ইয়েদুরাপ্পা সরকার গড়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েও দু’দিন বাদেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। রীতিমতো এক জমজমাট নাটক দেখল কর্ণাটক। দেখল গোটা ভূ-ভারত। কংগ্রেস এবং জেডি এসকে তাদের বিধ্যাওকদের পৃথক রিসর্টের নিরাপদ আশ্রয়ে রাখতে হয় বিজেপি বিধায়ক কেনা রুখতে। সব নাটকের অবসান ঘটল যখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো দুদিনের মাথায় ইয়েদুরাপ্পা পদত্যাগ করলেন। অবশ্যই বিশাল ধাক্কা বিজেপির। মোদী -শাহরা কর্ণাটক বিজয়ের স্বপ্ন ভঙ্গ তো হয়েছেই একই সঙ্গে মানইজ্জতও বিনষ্ট হয়েছে। স্বভাবতই খুশি কংগ্রেস এবং জেডিএস। কুমারস্বামী মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নিয়েছেন এবং কংগ্রেসকে নিয়ে সরকার গঠনও করেছেন। কর্ণাটকের এই ঘটনায় যার পর নাই খুশি আঞ্চলিক দলগুলি। জোট হলেও যে বিজেপিকে হারানো সম্ভব তা কর্ণাটকের ঘটনায় প্রমান হয়ে গেল। স্বভাবতই বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের শীর্ষ নেতারা এবং কংরেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও কুমার স্বামীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির থেকে বিজেপি বিরোধী জোটের সলতে পাকিয়ে এলেন। সবার লক্ষ্য এখন ২০১৯। তার আগে যে বিজেপি যে এখানে সরকার ফেলে দেওয়ার জন্য ঘোড়া কেনাবেচার রাস্তা ধরবে না তা কে বলতে পারবে? অতএব পরবর্তী নাটকের দিকে চোখ থাকবে সকলের।