বাম-কংগ্রেসের দৈন্যতা

0
4560

৩০ তম বর্ষ, ২৫০ সংখ্যা, ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ৩ বৈশাখ

সিপিএম, কংগ্রেসের হ’লটা কী। পঞ্চায়েত নির্বাচনেই সব দলের রাজনৈতিক ভিত পরীক্ষার সুযোগ আসে। তার কারণ পঞ্চায়েত ভোট গ্রামবাংলার ভোট। গ্রামীন জনসাধারণের কাছে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ এনে দেয় পঞ্চায়েত ভোটই। গণতান্ত্রিক প্রথায় সামিল হয়ে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের সমস্ত আসনেই গ্রামীণ এলাকার পুরুষ ও মহিলারানিএজেদের পছন্দমতো প্রার্থীদের বেছে নিয়ে গ্রামোন্নয়নের দায়িত্বভার তুলে দেয়। আর এক্ষেত্রে যে দলের শক্তি বেশি থাকে তারাই বাজিমাত করে বেশি আসনে জয়লাভ করে। কোনও সন্দেহ নেই গ্রামীণ এলাকার সঙ্ঘত শক্তি দিয়েই বিধানসভা লোকসভায় দাপিয়ে বেড়ায় বিজয়ী দল। সুতরাং গণতান্ত্রিক ক্ষমতার মূল উৎস নিহিত কিন্তু এই পঞ্চায়েতেই। আর সেখানেই কিনা বিজেপির তুলনায় পিছিয়ে পড়ল ৩৪বছরের শাসক সিপিএম এবং বর্ত্মানে রাজ্য বিধায়সভায় বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। এই সেদিন থেকে সক্রিয় হয়েই বিজেপি আজ সিপিএম, কংগ্রেসকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে চলেছে এটা তো এই দুই দলের কাছে চরম লজ্জাজনক। এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনের ত্রিস্তর আসনে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে এই দুই দলের ‘পারফরম্যান্স’ আদৌ ভাল নয়। গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪৮ হাজারের বেশি মোট আসনে বেজেপি যত সংখ্যক প্রার্থী দিয়েছে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস মিলে সেই সংখ্যা পৌঁছতে পারেনি। যদিও পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদে বাম-কংগ্রেসের প্রার্থী সংখ্যা বিজেপির থেকে বশি। প্রশ্ন হ’ল তাই যদি হয় তবে একেবারে গ্রামীন স্তরে এই দুই দলের রাজনৈতিক ভিত এখনও দুর্বল? গত ২০১৬-র বিধান্সভায় ভোটের পর তো অনেক দিন কেটে গেল তাহলে কেন এতদিন কংগ্রেস বা বামেরা তাদের শক্তির দিকে নজয় দেয়নি। হাইকোর্টের রায় -এ যদি মনোনয়নের দিন বাড়ে বা অন্য কোনও রায় হয় সেটা পরের কথা, কিন্তু ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেখা গেল বাম-কংগ্রেসের এই হাল। প্রার্থী সংখ্যা কম হওয়ার কারণ যদি শাসক দলের সন্ত্রাসই মূখ্য হয় তবে সেক্ষেত্রে প্রশ্ন, তাহলে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বিজেপি এত প্রার্থী দিল কী করে? নিশয়ই তাহলে  পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীন এলাকার শাসকবিরোধী মানুষ বাম-কংগ্রেসের থেকে বিজেপিকেই পছন্দ করছেন। এবং এর জন্য কৃতিত্ব দিলীপ ঘোষদেরই। শেষ পর্যন্ত ফলাফল বা পঞ্চায়েত ভোটের ভাগ্য কী দাঁড়ায় সেটাই দেখার। কারা কত আসনে জেতে সেটাও দেখতে হবে। কিন্তু ফলাফলের আগে মনোনয়নের বহরই বুঝিয়ে দিচ্ছে বাম-কংগ্রেসের রক্তক্ষয়ণ অব্যাহত রয়েছে। যারা গ্রামেগঞ্জে প্রার্থী খুঁজে পায় না তাদের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা দরকার। কেন না সামনে মহা নির্বাচন লোকসভার ভোট। তার আগে দলকে শক্ত না করে সূর্যকান্ত মিশ্ররা যদি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে, এবং অধীর চৌধুরীরাও জোটের প্রত্যাশায় রাহুল-মুখী হয়ে থাকেন তবে তার দশ এমনই হবে।