নির্বাচনী ঐতিহ্যে আঘাত নয়

0
6312

 ৩০ তম বর্ষ, ২৩৯ সংখ্যা, ৬ এপ্রিল ২০১৮, ২২ চৈত্র  

পঞ্চায়েতের মনোনয়নকে ঘিরে রাজ্যের জেলায় জেলায় সংঘর্ষ ও রক্তপাতের ঘটনা ঘটছে। কোথাও শাসক গোষ্ঠী, কোথাও বিরোধী গোষ্ঠী অভিযুক্ত হচ্ছে। এমনকী এমন সব অপকর্মে লাঠিসোটা, অস্ত্রশস্ত্র থেকে আগ্নেয়াস্ত্র পর্যন্ত ব্যবহার করা হচ্ছে। যা গণতন্ত্রের প্রতি নিদারুণ অসৌজন্যতা, সন্দেহ নেই। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে যাওয়ার ঘটনা বিগত চার দশক ধরে চলে আসছে। বিশেষত গ্রামে গ্রামে যেভাবে শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে দখলদারি চালিয়েছে, বিরোধী কণ্ঠ, বিরোধী সক্রিয়তা বন্ধে ভয়ঙ্কর আক্রমণ নামিয়ে ছিল তা ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পাতায় এ-ও লেখা রয়েছে, বিরোধীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। চরম অত্যাচার করা হয়েছে মনোণয়নকারীদের। এমন ব্লকও দেখা গিয়েছে যেখানে বিরোধীদের ত্রস্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের সিঙ্ঘভাগ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিতেই দেওয়া হয় নি। এহো বাহ্য! এছাড়াও যেখানে যেখানে নির্বাচন হয়েছে সেইসব জায়গায় প্রচারে বাধা, ভোটের সময় ঘরে ঘরে শাসানি, বুথে বুথে রক্তচক্ষুর টহলদারি, ভোটারদের ভোট দানে বাধা, রিগিং, ভোটকর্মীদের শাসানি থেকে শুরু করেয়ানাবিধ স্বৈরতান্ত্রকতার নিদর্শন রয়েছে অতীতের নির্বাচনী ইতিহাসে। ভোটের পর বয়কটা করা, গৃহছাড়া করা, শারীরিক আক্রমণ এসব তো রয়েছেই। যেখানে গণতন্ত্র হয়ে উঠেছে কেবল মুখেল শ্লোগান। সংবিধানকে করা হয়েছে কলঙ্কময় এবং নির্বাচনী বিধিকে করে তোলা হয়েছে প্রহসন। দীর্ঘ বাম জমানার সেসব পকর্ম নিয়ে বহুঝড় উঠেছে, বিতর্ক উঠেছে। সমালোচনা-নিন্দার আলোড়ন ঊঠেছে, আবার তা কালের নিয়মে স্তিমিতও হয়ে গিয়েছে। তবে আমজনতার মনের সদরে তার প্রতিচ্ছবি আজও অম্লান। সুতরাং নির্বাচন মানেই যেন এ রাজ্যে হিংসার সংস্কৃত। এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও যথারীতি প্রাথমিক পর্বেই সেই হিঙ্ঘা, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে চলেছে। বিভিন্ন দলের আস্থাভাজন দুস্কৃতীরা লাঠিসোটা, অস্ত্র নিয়ে দাদাগিরি চালাচ্ছে-যা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। যেখানে স্বয়ং রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলে চলেছেন আইন মেনে চলতে, কোথাও কোনওরকম হিংসাকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়তে, যেখানে মনোনয়নকে ঘিরে এইরকম হিংসা সংন্ত্রাস কখনই কাম্য নয়। সরকার পক্ষ ও বিরোধীপক্ষ সকলের উচিত নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করা। নির্বাচনী বিধি ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে সম্মান জানিয়ে জনতার আদালতের প্রতি আস্থাশীল হওয়া। প্রশাসনের উচিত নির্বাচনকে কলঙ্কিত করে তোলার ক্ষেত্রে যে বা যারা হিংসার আশ্রয় নেবে, সন্ত্রাসকে হাতিয়ার করে নির্বাচনী ঐতিহ্যকে কলুষিত করে তুলবে দলমত নির্বিশেষে তাদের সকলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষে গ্রহণ করা। পঞ্চায়েত নির্বাচন সব্দিক থেকে গণতন্ত্রময় হয়ে উঠুক-এটাই কাম্য রাজ্যবাসীর।