দলিত বিক্ষোভ

0
4881

 ৩০ তম বর্ষ, ২৩৮ সংখ্যা, ৫ এপ্রিল ২০১৮, ২১ চৈত্র 

দলিত বিক্ষোভে উত্তাল দেশ। দুদিন আগে রাজ্যে রাজ্যে দলিত সংগঠনের ডাকা ভারত বনধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনায় ৯জনের মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসছেন দেশের দলিত সমাজ। তাঁদের একটাই অভিযোগ কেন্দ্রীয় সরকার দলিতদের সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষায় তেমন আগ্রহী নয়। সে কারণেই দেশের শীর্ষ আদালত তাঁদের নিরাপত্তায় যে কঠোর আইন বলবৎ ছিল তা লঘু করে দিয়েছে। কেন্দ্রে পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতে এই নিয়ে কোনও পদক্ষেপ না করার কারণেই আদালত আইনটি লঘু করে দিয়েছে, এক্ষেত্রে কেন্দ্রের শাসক সলের উচ্চ বর্ণবাদী রাজনীতি কাজ করছে বলে দলিত সমাজ অভিযোগ তুলেছে। দলিত সমাজের যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তাকে সমর্থন করেছেন রাহুল গান্ধী্‌ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মায়াবতী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রীরা। ফলে দলিত বিক্ষোভ আরও বলিষ্ট চেহারা নিয়েছে, দলিতদের ক্ষোভের মূল কারণ তফসিলি জাতি-উপজাতিদের উপর উচ্চ বর্ণের বা অন্যাদের অত্যাচার রুখতে ১৯৮৯ সালের আইনের একটি ধারা লঘু করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এজন্য দায়ী কেন্দ্রীয় সরকারে উন্নাসিকতা। ঐ আইনে বলা ছিল এস সি, এস টি-র কেউ আক্রান্ত হলে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচার হবে ও কড়া শাস্তি হবে। পরে তা সংশোধন করে আইনের ব্যাপ্তি বৃধি এবং বিচার সম্পন্ন করার মেয়াদ কমানো হয়। কিন্তু এস সি, এস টি অ্যাক্ট অপব্যবহার করে সরকারি কর্মীদের হেনস্থা করা হচ্ছে এই মর্মে শীর্ষ আদালতে মামলা হলে ২০১৮-র গত ২০ মার্চ এই আইনের ১৮ নম্বর ধারা রদ করার নিদান দেয় আদালত। আদলত জানান, দলিতদের কেউ আক্রান্ত এই মর্মে অভিযোগ হওয়া মাত্র অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে না। পূর্বের আইনে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতারের সুযোগ ছিল। কিন্তু বিচারপতিরা নির্দেশ দিয়েছে ডি এস পি পদমর্যাদার অফিসার আগে অভিযোগের সরাবত্তা খতিয়ে দেখার প অভিযোগ সঠিক হলে তবে এফ আই আর রুজু করা যেতে পারে। এখানে আপত্তি দলিত সংগঠনগুলির। তাদের আশঙ্কা এর ফলে তাদের উপর অত্যাচার আগের মতো আরও বাড়বে। ঐতিহাসিক ও সামাজিক কারণেই নিত্য নিরাপত্তা হীনতার শিকার দলিতরা। সেই জায়গায় এমন আইন হলে রাজ্যে রাজ্যে দলিতদের আরও অত্যাচার সহ্য করতে হবে। স্বভাবতই কেন্দ্রের বিরুদ্ধেই ফুঁসছেন দেশের দলিত মানুষজন। বিরোধীদের সমর্থন তাদের আরও বেশি করে আনোলন মুখী করে তুলেছে। এমনিতেই বিজেপি জমানায় বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় দিনই দলিতদের উপর আক্রমণ নেমে আসছে। হত্যার শিকার হচ্ছেন তাঁরা। এই অবস্থায় মোদী সরকার যদি এক্ষেত্রে দলিতদের ক্ষোভ নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তবে দেশে আরও অস্থিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে সন্দেহ নেই। যদিও পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কেন্দ্র এই আইন নিয়ে পুনর্বিচারের আবেদন জানিয়েছে শীর্ষ আদালতে। শেষমেশে কী হয় সেটাই এখন দেখার।