বাংলায় এ কোন সংস্কৃতি !

0
1414

    ৩০তম বর্ষ, ২৩৫ সংখ্যা, ২ এপ্রিল ২০১৮, ১৮ চৈত্র ১৪২৪  

এ কোন পশ্চিমবঙ্গ ! এখানে ধর্ম নিয়ে এত উন্মত্ত উন্মাদনা কেন ? বাংলার সংস্কৃতি সহিষ্ণুতার । বাংলার সংস্কৃতি সহিষ্ণুতার। বাংলার ঐতিহ্য বহুত্ববাদিতার সংস্কৃতি। সাম্প্রদায়িক ঐক্য, সংহতি ও সম্প্রীতির সংস্কৃত। নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধানের সংস্কৃতি। বাংলা হল মহান ভারতীয় ভূখণ্ডের এক মহান তীর্থ ক্ষেত্র যা বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী, বিভিন্ন ভাষাভাষি নানা সংস্কৃতির মিলনমেলা। যার মূল মন্ত্র হল বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য। প্রশ্ন হ’ল তাহলে বাংলার এই মিলনক্ষেত্রে ধর্মকে ব্যবহার করে কিছু উন্মত্ত মানুষ কেন এত হিংসার রাজনীতিতে মত্ত হয়ে উঠেছে ? রামনবমীর দিন যেভাবে পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জ, আসানসোল, কান্দি, উত্তর ২৪ পরগণার কাকিনাড়া সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অস্ত্রে নিয়ে শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং তাতে মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে সেটা কোন ধরণের ধর্মীয় সংস্কৃতি ? এর মধ্যে রাণিগঞ্জে দুই গোষ্ঠীর তপ্ত সংঘর্ষের ঘটনায় এক পৌঢ়ের মৃত্য ঘটেছে। বোমার আঘাতে আসানসোল-দুর্গাপুরের কমিশনারেটের ডি এস পি সহ ৬ পুলিশ কর্মী জখম হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় অজস্র বাড়ি-তে ভাঙচূর, অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। উত্তেজিত জনতা রানিগঞ্জ থানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চরম আঘাত হানা হয়েছে। একদল সশস্ত্র ধর্মোন্মত্ত মানুষের এই ধরণের জগন্যতম কাজ কোন ধরণের বঙ্গ-সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে ? রামনবমী বাংলার আর পাঁচটা ধর্মীয় উৎসবের মতোই এক উৎসব। সকলের অধিকার আছে যে যার নিজের সংস্কৃতি অনুযায়ী এই উৎসব পালন করার, উৎসবে সামিল হওয়ার। সেখানে কেন অস্ত্র নিয়ে শোভাযাত্রাকে ঘিরে রনক্ষেত্র হয়ে উঠবে, মানুষের রক্ত ঝরবে ? কেন সংকীর্ণ রাজনীতির বৃত্তবলয়ে ধর্মকে সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহার করে মানুষের কাছে হিংসা, নৈরাজ্যের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হবে ? রামনবমীর দিন যেভাবে জেলায় জেলায় অস্ত্র মিছিল, এমনকী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হ’ল সেইসব অস্ত্রের আগাম হদিশ কেন পেল না পুলিশ ? ধর্মের নামে জিগির তুলে বাংলায় এমন সহিংস রাজনীতির আমদানি বন্ধ করা দরকার। প্রশাসনের উতিত রামনবমীকে ঘিরে যারা রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। এক্ষেত্রে কোনওরকম দলীয় বাছবিচার নয়। সমস্ত উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় শান্তি ফেরানো জরুরী। যদিও প্রশাসন সর্বশক্তি দিয়ে শান্তি ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে। সংঘর্ষ কবলিত একালার মানুষকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ছন্দে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব যেমন প্রশাসনের, তেমনই সমস্ত রাজনৈতিক দলেরও। ধর্ম এবং রাজনীতির পার্থক্য বুঝে সব দলের উচিত গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে মর্যাদা দিয়ে কাজ করা। হিংসা নয়, চাই শান্তি, বিভেদ নয়, ঐক্য। কারণ এটাই বাংলার সংস্কৃতি।