কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

0
804

 ৩০ তম বর্ষ, ২২৬ সংখ্যা, ২৪ মার্চ ২০১৮, ৯ চৈত্র ১৪২৪  

২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসে নরেন্দ্র মোদী সরকার যে গোটা দেশে একটা আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কংগ্রেসকে একেবারে কোমায় পাঠিয়ে বিজেপি এককভাবে ২৮২টি আসন দখল করায় নরেন্দ্র মোদীর বিপুল ক্যারিশমায় দ্যুতি ছড়িয়ে পড়েছিল ভূ-ভারতে। একটি অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একবারে সংসদীয় গণতন্ত্রের কল্যাণে সংসদে প্রবেশ এবং প্রবেশ করেই প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে এটা কম কথা নয়। দেশের যুব সমাজ মোদীজির ‘আচ্ছে দিন’ এর শ্লোগান, ডিজিট্যাল ইণ্ডিয়ার শ্লোগান, ঘরে ঘরে কর্মসংস্থানের গগনবিদারী শ্লোগানে প্রলুব্ধ হয়ে দু’হাত ভরে ভোট দিয়েছেন। রাজ্যে রাজ্যে গেরুয়া রথের চাকায় একরকম পিষ্ট হয় ওঠে বিভিন্ন রায়ের আঞ্চলিক দলগুলি। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেবল জয়ললিতা, মমতা, নবীন পট্টনায়কের দল। যাঁরা নিজ নিজ গড়কে বিজেপির আগ্রাস থেকে রক্ষা করতে পেরেছেন। সেই মোদী ক্ষমতায় বসার পর থেকে চার বছর হয়ে গেল। এর মধ্যে দেশে ‘আচ্ছে দিন’ আনতে মোদীজির সরকার বিমূদ্রাকরণ, জিএসটি, স্বচ্ছ ভারত, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, স্মার্ট সিটি প্রভৃতি নানারকম প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যদিও বিমূদ্রাকরণ নীতি অনুযায়ী নোট বাতিল ইস্যূতে গোতা দেশব্যাপী ঝড় বয়ে গিয়েছে, দেশের মানুষকে নোট পরিবর্তনের যে ভয়ঙ্কর ঝামেলা পেতে হয়েছে বিরোধী দলগুলি সেই নিয়ে তীব্র আন্দোলনে নেমেছে। যে সমালোচনার ঝাঁজ এখনও পোয়াতে হচ্ছে কেন্দ্রকে। একই ভাবে তড়িঘড়ি জিএসটি চালু করা নিয়েও দেশের ব্যবসায়ী মহলের ক্ষোভের নিরসন ঘটে নি এখনও, পরের লোকসভা নির্বাচনের আগে মোদীজির কাছে সমস্তরকম কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন ঘটানো মস্ত চ্যালেঞ্জ সন্দেহ নেই। অথচ এর মধ্যে এইসব প্রকল্পের কাজে বরাদ্দ করা অর্থ সব খরচ না হওয়ার ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে মোদী সরকারের। সংসদীয় কমিটির এক রিপোর্ট বলছে মোদী সরকারের ঘোষিত একাধিক প্রকল্পে বরাদ্দ করা অর্থের নিমিত্ত মাত্র খরচ হয়েছে। কেন্দ্রের প্রধান ছটি পরিকাঠামো প্রকল্পে বরাদ্দ ৩৩,৬০০ কোটি টাকার মধ্যে ২১ শতাংশ, আনুমানিক ৭২০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এমনকী সকলের জন্য আবাসন বা খোলা জায়গায় শৌচ বন্ধ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পেও মোদী সরকার ঘোষণা মতো পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করেনি। ফলে প্রকল্পগুলির গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। এমনকি নিয়ম মতো বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যগুলির দেয় অনুদান সঠিকভাবে ব্যবহার না হওয়ায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির রূপায়নে ঘাটতি থেকে গিয়েছে। সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে কেন্দ্রকে সতর্ক করে বলা হয়েছে প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ না বৃদ্ধি করা হলে সব প্রকল্প স্বপ্নই থেকে যাবে। কমিটির এই রিপোর্টে কেন্দ্র রীতিমতো বিড়ম্বনায়। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে যদি এইসব প্রকল্প স্বপ্নের চৌহদ্দি থেকে সব বাইরে বেরিয়ে না আসে তাতে নরেন্দ্র মোদীর সরকার ও দল যে বিপাকে পড়বে না তা কে বলতে পারে। বিরোধীরা ছেড়ে কথা বলবে কী?