রাহুল গান্ধীর ‘ডাব্‌ল’ চ্যালেঞ্জ

0
437

 ৩০তম বর্ষ, ২২৫ সংখ্যা, ২৩ মার্চ ২০১৮, ৮ই চৈত্র ১৪২৪  

কংগ্রেসের প্লেনারি অধিবেশন থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি দলে নেতাদের থেকেও কর্মীদের বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রবীণ নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কর্মীদের কান্না-ঘাম-রক্তকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে রাহুল গান্ধী বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি তাঁর পূর্বসূরি থেকে ব্যাতিক্রমী নেতা। দিল্লির প্ল্যানারি অধিবেশন থেকে তাঁর সাফ কথা-সংগঠনকে বদলাতে হবে। পিছনে যাঁরা বসে আছেন তাঁদের মধ্যে শক্তি আছে দেশকে বদলানোর। কিন্তু তাঁদের ও নেতাদের মধ্যে একটা দেওয়া রয়েছে। দলের সভাপতি হিসেবে তাঁর প্রথম কাজ সেই দেওয়ালকে ভাঙা। তবে ক্রোধের বশবর্তী হয় নয়, ভালোবেসে, প্রবীনদের জন্য শ্রদ্ধা রেখে। যাঁদের ট্যালেন্ট আছে, মনে ভারতের জন্য আগুন জ্বলছে তাঁদের এই স্টেজে আনা হবে। সেজন্যই এই অধিবেশনে স্টেজ ফাঁকা রাখা হয়েছে। রাহুল গান্ধীর এহেন বক্তব্য অবশ্যই ব্যাতিক্রমী। রাহুলের মোদ্দা কথা তিনি দলে কর্মীদের মধ্য থেকে অনেক নেতা তৈরি করতে চান। যাঁরা সবাই এক একজন তৈরি হয়ে দেশ চালাতে পারবে। যেমন অতীতের কংগ্রেসে ছিলেন গান্ধী, নেহরু, সর্দার প্যাটেল, আজাদ, জগজীবন রাম। এঁদের যে কেউ দেশ চালাতে পারতেন। রাহুল গান্ধী বলেছেন এটাই তাঁর স্বপ্ন। ঐ দিনের মতো কংগ্রেসকে চালাতে চান তিনি। কোনও সন্দেহ নেই দলের সভাপতি হিসেবে রাহুল যা বলেছেন তা তাঁর নিজস্ব ভাবনা থেকে। তিনি অপেক্ষাকৃত তরুন নেতা। নেটের দুনিয়ায় এখনকার তরুণদের স্বপন যা কিছু ই-প্রযুক্তির চৌহদ্দিতে থেকেই তা তাঁরা ছড়িয়ে দিতে চান সর্বত্র। রাহুল গান্ধীও তরুণ প্রজন্মকে দলের মধ্যে নিজের মতো করে তৈরি করতে চাইছেন। দলকে সুসংগঠিত করে তোলা, দলের মধ্যে মেসিনারিকে ই-সমৃদ্ধ করে তোলা, দলের ‘ওয়াররুম’ কে ব্যবহার করে দল্কে আরও আধুনিক করে তোলার ইচ্ছে রাহুলের। এজন্য এ আই সি সি-র রিসার্চ সেলকেও ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সুতরাং এইভাবে নিজের মতো করে কংগ্রেসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রজন্মকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে। রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে গুজরাত নির্বাচন এবং অন্যান্য রাজ্যের লোকসভা, বিধানসভা, পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাল সাফল্য পেয়েছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনই জটিল, কয়েকটি উপনির্বাচনে বিজেপি খারাপ ফল করলেও মনে রাখতে হবে এখনও ২১টি রাজ্যে তারা ক্ষমতাসীন। তাই ২০১৯-এ বিজেপির মোকাবিলা করা নিশ্চয়ই কংগ্রেসের একার পক্ষে সম্ভব হবে না। তা রাহুল গান্ধী যতই নিজের দলকে তাঁর নয়া ভাবনা দিয়ে বড় করে তোলার চেষ্টা করুন না কেন। মনে রাখতে হবে এখন রাজ্যে রাঝ্যে আঞ্চলিক দলগুলি অনেক ক্ষমতাশালী। সেই সব দলকে এক জোটের ছাতার তলায় নিয়ে আসতে না পারলে কখনই বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যূত করা সম্ভব হবে না। একাজে সফল হয়ে যদি কেন্দ্রে শাসন ক্ষমতার বদল ঘটাতে না পারেন তবে রাহুলের স্বপ্ন সম্ভব হবে না কখনই। সংসদীয় গনতন্ত্রে ক্ষমতাই আসল। সুতরাং নয় ভাবনায় দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং কেন্দ্রের শাসক-বদল ঘটানো দুইয়ের চ্যালেঞ্জ রাহুল গান্ধীর উপর।