২০১৯-এর দ্বৈরথ

0
534

 ৩০ তম বর্ষ, ২২২ সংখ্যা, ২০ মার্চ ২০১৮, ৫ চৈত্র ১৪২৪  

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে এই বঙ্গের মানুষজন দেখতে পাবেন শাসক দল তৃণমুল কংগ্রেস বনাম বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের কৃতিত্ব জাহির করার অভিনব প্রচার কৌশল। মূলত এই দু’দলের দ্বৈরথই যে মুখ্য হয়ে উঠবে লোকসভা নির্বাচনে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। আর তা যদি হয় তবে দু’পক্ষের হাতিয়ার হতে চলেছে রাজ্য প্রকল্প ও কেন্দ্রীয় প্রকল্প। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইবেন তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন জনকল্যাণকর প্রকল্পগুলির সুফল জনগণের সামনে তুলে ধরতে। আর নরেন্দ্র মোদী চাইবেন কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁর সরকারের কাজকর্মের সুফল নিয়ে প্রচার করতে। এবং দু’পক্ষেরই প্রচারের ঝাঁঝ যে গোটা বাংলা জুড়ে তুঙ্গে উঠবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিজেপির সিদ্ধান্ত হ’ল এবারের বাজেটে কেন্দ্রীয় সরকার যেসব জনকল্যাণ্মূলক প্রকল্প ঘোষনা করছে সেইসব প্রকল্পের সুফল ২০১৯-র লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশের নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। দলের সমস্ত সাংসদদের এব্যাপারে যথোচিত ভূমিকা পালন করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা সাংসদদের সাফল্যই দলের পারফরম্যান্স বজায় রাখে। সাংসদরা ভাল কাজ করলে তবেই মানুষ তাঁদের প্রতি আকৃষ্ট হবে। তখনই ভোট দেবেন তাঁরা। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই বঙ্গের নেতাদের কাছে জানিয়ে দিয়েছে এবারের বাজেটের ভাল দিকগুলি নিয়ে রাজ্যের সমস্ত এলাকায় প্রচার করতে হবে। বাজেটে কৃষক ও গরীব মানুষের কথা মাথায় রেখে ১০ কোটি পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যবিমা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব প্রচারের জন্য একেবারে বুথ স্তর থেকে উপর স্তর পর্যন্ত বিভিন্ন বৈঠক ও জনসভা ডেকে সাধারণ মানুষের কাছে সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল তুলে ধরতে হবে। এবং এটাই হবে লোকসভা ভোটে প্রচারের বড় হাতিয়ার। বিজেপির এহেন সিদ্ধান্ত গ্রহনের পিছনে কারণ রয়েছে। কারনটা হল মোদী শাহরা জানেন রাজ্যের প্রধান শাসক দলের উপর্যুপরি সাফল্যের নেপথ্যে রসায়ন হ’ল রাজ্য সরকারের অজস্র জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। সরকারের বিভিন্ন ধরনের কাজে তুষ্ট রাজ্যের মানূষ। কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, সবুজ সাথী, রূপশ্রী, সমব্যাথী সহ আরও বিভিন্ন কল্যাণমুলক প্রকল্পের সুফলফুলি পেয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকায় রীতিমতো খুশি আমজনতা। এছাড়াও রয়েছে গরিব মানুষদের জন্য ২টাকা কেজি দরে চাল, কৃষি বিমা, কৃষি মাণ্ডি এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতা, মেলা, উৎসব ইত্যাদি সব দিক দিয়ে জনসাধারণকে সরকারমখী করে তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই সাফল্যের কাহিনি না জানার কথা নয় মোদীজির। তাই তিনিও তাঁর সরকারের যাবতীয় প্রকল্পগুলিকেই নির্বাচনী প্রচারের হাতিয়ার করতে চাইছেন। সুতরাং দু’পক্ষের প্রচারের এই কৌশল যে ভোটের ময়দানে বিশেষ সাড়া জাগাতে চলেছে তা এখন থেকেই বলে দেওয়া চলে।