সমস্ত আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্ত জরুরি

0
589
 ৩০ তম বর্ষ, ২০৪ সংখ্যা, ০২ মার্চ ২০১৮, ১৭ ফাল্গুন ১৮২৪ 
এবার নীরব মোদীর ব্যাঙ্ক জালিয়াতি। দেশে এমন জালিয়াতি এই প্রথম তা নয়। কত জনের কতরকম কেলেঙ্কারির সাক্ষী দেশবাসী। বিভিন্ন সময়ে এই সমস্ত কেলেঙ্কারি নিয়ে ভারতীয় রাজনীতি তোলপাড় হয়েছে। সরকারের পদত্যাগ চেয়েছে বিরোধী দলগুলি। রাজনীতির ময়দান প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে। এইসব কেলেঙ্কারির মধ্যে কোথাও সরকারের মন্ত্রী-মন্ত্রী থেকে শুরু করে শাসক দলের নেতা বা বিরোধী দলের কোনও নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সিবিআই, ইডি থেকে শুরু করে সংসদীয় কমিটি তদন্তে নেমেছে, ধরপাকড় হয়েছে, কেউ কেউ গ্রেফতারও হয়েছেন। এখন যে নীরব মোদীর পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে জালিয়াতির যে অভিযোগ উঠেছে তা সকলেরই চমকে যাওয়ার মতো। একেবারে ১১,৪০০ কোটি টাকার বেশি ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, দেশে সর্বাপেক্ষা বৃহৎ অঙ্কের জালিয়াতি। যে ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে নিশানা করে তোলপাড় শুরু করে দিয়েছে। কেন্দ্রের শাসক দলকে চেপে ধরার মোক্ষম অস্ত্র ব্যবহার করে চলেছে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম থেকে শুরু করে সব বিরোধী দল। অবশ্য হওয়াটাই স্বাভাবিক। যে বিপুল পরিমান টাকার এই কেলেঙ্কারি তা তো জনগণেরই টাকা সরকারি কোষাগারের টাকাই হোক, বা ব্যাঙ্কের কোষাগারেরই হোক সব আমজনতার টাকা। তাই আমজনতার টাকা নিয়ে যাঁরা জালিয়াতি করবে, তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ তো হবেই। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আভ্যন্তরীণ রিপোর্ট বলছে, ২০১৫ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৫২০০ ব্যাঙ্ক কর্মচারী সামনে এসেছেন, যাঁরা কোনও না কোনওভাবে আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন হয়তো হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী। এবং তার মামা মেহুল চোকসিও ব্যাঙ্কের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্ত । নীরব মোদী বিপুল পরিমাণ টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি করে জানুয়ারিতেই দেশ ছেড়ে মার্কিন দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মোদীর পাশাপাশি এই জালিয়াতি কাণ্ডে পাঞ্জাব ব্যাঙ্কের কিছু আধিকারিক অভিযুক্ত হওয়ায় তাঁদের সাসপেন্ড করেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। স্বভাবতই প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলির কেন্দ্রের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিৎ সঠিক ভাবে এই ঘটনা তদন্ত করা। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে ও ব্যাঙ্কিং ঋণ প্রদান ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করে তুলতে সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কেই পরিচালন ব্যবস্থার কড়া নজরদারি করা। এছাড়াও বিভিন্ন ভাবে আরও কিছু ব্যাঙ্ক জালিয়াতির যে সব ঘটনা সামনে আসছে তার সমস্ত রকম তদন্তের ব্যবস্থা করা। ভারতীয় অর্থনীতিকে স্বচ্ছ, মজবুত ও জনমুখী করার গুরুদায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের।