ভোটযন্ত্রই, না ব্যালট

0
28

৩০তম বর্ষ, ১২৭ সংখ্যা, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৭ অগ্রহায়ন ১৪২৪ –

নির্বাচনে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ চিরদিনের। এ রাজ্যে তো বিগত বেশ কয়েকবছর আগে থেকেই এমন অভিযোগ শুনে এসেছে রাজ্যবাসী। বাম আমলে বিরোধী কংগ্রেস দল যার নাম দেয় সায়েন্টিফিক রিগিং । এবং একথা ভূ-ভারতে জানে সিপিএমের জমানায় ভোট নিয়ে বিরোধীদের এই ছাপ্পা ভোট তত্ত্ব কী চরম পর্যায়েই না পৌঁছেছিল। তা সে লোকসভা ভোটই হোক বা বিধান্সভা, পুরসভা, পঞ্চায়েত ভোট প্রভৃতি যাই হোক না কেন । এই অভিযোগ তুলে রাজ্যময় আকাশ-বাতাস সব প্রকম্পিত করে তোলে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এই দুই প্রধান বিরোধী দল। পরবর্তীকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যে তাঁর দল কংগ্রেসকে হটিয়ে এরাজ্যে প্রধান বিরোধী দলের শিরোপা পেয়ে যায়। এখন আবার মমতার দলই শাসক দল। তা এই জমানও কী ভোটে হিংসা, কারচুপির অভিযোগ থেকে মুক্ত নাকি? না । এখন যারা বিরোধী দল সেই সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি সবাই ভোটের রায়কে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রায় বলেন মেনে নেয় না। সেই আগের মতোই ছাপ্পা ভোট, রিগিংয়ের নালিশ শাসক দলের গায়ে লেপ্টে দিতে কসুর করে না বিরোধীরা। না কেবল এই বাংলাই নয়, এখন যারা কেন্দ্রের ক্ষমতায় সেই কেন্দ্রীয় শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটে বিরোধীদের কারচুপির নালিশ শোনা যাচ্ছে। এখন আবার নতুন অভিযোগ ইভিএম-বা বৈদ্যুতিক ভোটযন্ত্র কারচুপি। যেমন সদ্য উত্তরপ্রদেশে পুরসভা ভোতেও বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটযন্ত্র কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন মায়াবতী, অখিলেশ যাদবরা। ইভিএম ছেড়ে তাঁরা ব্যালট ফেরানোর দাবিতে রীতিমতো সরব হয়ে উঠেছেন। উত্তরপ্রদেশে ১৬টি পুর নিগমের মধ্যে ১৪টিতে বিপুল ভোটে জিতেছে বিজেপি। তাই শাসক শিবিরের এই কারচুপির অভিযোগে আগামী লোকসভা ভোতে ব্যালট ব্যবহারের দাবি তুলেছে বহুজন সমাজ পার্টি, সমাজবাদী পার্টি এবং বিভিন্ন বিরোধী দল। মায়াবতী, অখিলেশ অভিযোগ তুলেছেন ওখানকার পুর ভোটে যেসব জায়গায় ব্যালটে ভোট হয়েছে সেইসব জায়গায় বিজেপি আসন পেয়েছে ১৫ শতাংশ, কিন্তু ইভিএম-এ ভোট হওয়া জায়গাগুলিতে ৪৬% আসন পেয়েছে কেন্দ্রের শাসক দল। আপত্তির কারণ তাঁদের এখানেই। অবশ্য এই নেতা-নেত্রীই নন, এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ো এই ইস্যুতে বিজেপিকে আক্রমণ করে ব্যালট ভোট করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন । বাদ যায় নি কংগ্রেসও। এখন প্রশ্ন হ’ল নির্বাচন কমিশন কী এই দাবি মেনে নেবে ? কমিশন কখনই বিরোধীদের এই দাবি সমর্থন করেনি। তাই আগামী দিনে বিরোধীদের যদি এই ইস্যুকে তুঙ্গমাত্রায় নিয়ে যায় তখন কমিশন কী করবে সেটাই দেখার।