গোরক্ষার নামে তান্ডব অব্যাহত কেন?

0
19

৩০ তম বর্ষ, ১০০ সংখ্যা, ১৭ নভেম্বর ২০১৭, ৩০ কার্তিক ১৪২৪

গোরক্ষার নামে মানব হত্যার ঘটনায় গোটা দেশে মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং বেশ কিছু চুপ করে থাকার পর মুখ খুললেও এবং হুঁশিয়ারি দিএলেও তাতে তেমন কাজ হয় নি। তাঁর হুঁশিয়ারির পরেও গোরক্ষক তান্ডব অব্যাহত। উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ঝাড়খন্ড, মহারাষ্ট্র প্রভৃতি রাজ্যে গোরক্ষকদের তান্ডবে কেউ মারা গিয়েছে, কেউ কেউ আবার জখম হয়েছে। কয়েকদিন আগেও রাজস্থান-হরিয়ানা সীমানার কাছে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় এক যুবককে গুলি করে খুন করা হয়। জখম হয় আর আরও এক সঙ্গী। তাদের অপরাধ তারা গরু নিয়ে যাচ্ছি, তথাকথিত গোরক্ষকদল গরু নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজনের উপর ঘিরে ধরে গণপিটুণি চলে। তারপর গুলি। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। এজন্য সংঘ পরিবারকেই দায়ী করছে মুসলিম সংগঠন অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই ইত্তোহাদুল মুসলিমিন। সংগঠনের নেতৃত্ব অভিযোগ যংঘ পরিবার মুসলিমদের হত্যা করে দেশে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে। দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংস করতে চাইছে। বিজেপি সরকার দেশে ক্ষমতায় আসার পরেই এই হত্যালীলা চলছে। শুধু এই সংগঠনই নয়, ‘সিটিজেন এগেইনস্ট হেট’ নামে একটি সংগঠন স্পষ্ট বলেছে গত জুলাই মাসের আগে ২৪টি মামলা হয়েছে গোরক্ষকদের হিংসাত্মক ঘটনার কারণে। যে মমলায় ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজনের নাম এসেছে বলে এক রিপোর্টে এই সংগঠন জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, গোরক্ষার নামে এই হত্যার ঘটনা সমর্থন করছে বিজেপি, আর এস এস। তার প্রমাণ যাদের নাম এই সব ঘটনায় উঠে এসেছে তারা সবাই সরকার পক্ষে লোক। সুতরাং মুসলিম সংগঠঙ্গুলির গুরুতর অভিযোগ আখলাক থেকে জুনেইদ হত্যাকান্ডের নৃশংসতা বর্বরোচিত কাজ। প্রতিটি রাজ্য সরকারের উচিত এব্যাপারে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গরহ্ণ করা। গণতন্ত্রকে হত্যা করার এক্তিয়ার কারোর নেই। আইন হাতে তুলে নিয়ে কাউকে আক্রমণ করা, খুন করা, জখম করা গর্হিত অপরাধ। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত এব্যাপারে যথোচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যেহেতু কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক বিজেপি ও তাদের সংঘ পরিবার, তাই বিজেপিকেও এব্যাপারে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। নচেৎ দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হবে। স্বঘোষিত গোরক্ষক দল যারা মানুষে উপর অত্যাচার করছে, খুন জখম করছে, তারা গণতন্ত্রের শত্রু। তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি বিধান করা একান্তই জরুরি। এব্যাপারে কেন্দ্র ও সমস্ত রাজ্য সরকারগুলির দ্বায়িত্ব রিয়েছে। এক্ষেত্রে বিলম্ব করা সমীচীন নয়। দেশের সংহতির স্বার্থে তা অতীব জরুরি।