সম্প্রীতির উৎসব

0
22

৩০ তম বর্ষ, ৫৮ সংখ্যা, ৫ অক্টোবর ২০১৭, ১৮ আশ্বিন ১৪২৪

এর নামই ভারতবর্ষ। যে ভারতবর্ষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধাত্রীভূমি। শারদোৎসব দুর্গাপুজো এবং মহরম শান্তিপূর্নভাবে পালিত হাওয়ায় দেশবাসী প্রমাণ করল এটাই প্রকৃত ভারতবর্ষ। যে ভারতে মাটি সহিষ্ণুতার। সৌভ্রাতৃত্বের। যে ভারতের মহামানবের সাগরতীরে শক-হূণ-পাঠান-মোগল, আর্য-অনার্য-দ্রাবিড়-চিন সব একদেহে লীন হয়। সে দেহ আমাদের ভারতবর্ষ। বিশ্বকবির বিশ্বভাবনায় বহুত্ববাদী ভারতের স্থান অনেক উচ্চে। তাঁর কল্পিত মহামানবের সগরতীর দণ্ডায়মান এই ভারত ভূমিই গোটা বিশ্বকে পথ দেখায় সংহতির। উদারতার। স্বামীজি একদিন যা গোটা বিশ্বের সামনে উচ্চকন্ঠে ঘোষোণা করে মহান ভারতের উজ্জ্বল ভাবমূর্তির প্রসার ঘটিয়েছিলেন। এখানে নানা জাতি, নানা ধর্ম, নানা বর্ণ, নানা সম্প্রদায়ের একত্র সহবস্থান। প্রত্যিকের রয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতা। অধিকার। সবাই নিজের মতো করে ধর্মাচরণ করে। উৎসব পালন করে। এই মাটিতেই মন্দিরে মন্দিরে শঙ্খধ্বনি বেজে ওঠে। মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানের সুর। গির্জায় শোনা যায় প্রার্থনাগীতি। সব মিলিয়ে সর্বধর্ম  সমন্বয়ের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। আর এই ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই এবারও দুর্গোৎসব এবং মহরম পালিত হল সুষ্ঠুভাবেই। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারংবার আবেদন জানিয়েছিলেন। দুর্গাপুজো এবং মহরম যাতে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হয়। এজন্য অবশ্য তাঁর সরকার এবং প্রশাসন যথোচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। বিসর্জনের শোভাযাত্রা ও মহরমের তাজিয়া নিয়ে প্রশাসনিক বিধিনিষেধকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত এ ব্যাপারে তার সুনির্দিষ্ট নির্দেশও দিয়েছে রাজ্য প্রশাসনকে। শেষ পর্যন্ত সবই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার আবারও প্রমান হ’ল ভাররবর্ষের মাটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দুর্জয় ঘাঁটি। বাংলার বারো মাসে তেরো পার্বণের যে কৃষ্টি-সংস্কৃতির ধারা আবহমান কাল ধরে প্রবহমান, সেখানে নেই কোনও ভেদাভেদ। ভারতীয় সংবিধান সবার জন্য সমান অধিকার প্রদান করেছে। সেই বলেই আমরা সবাই নিজ নিজ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য বজায় রেখে উৎসবে সামিল হয়ে উঠি। আনন্দবন্যায় অবগাহন করে হৃদয়কে প্রসারিক করে তুলি। মিলনের এই ঐতিহ্যই বাংলার প্রাণশক্তি। এইভাবেই সমস্ত উৎসবে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে হাতে হাত রেখে নেজেদের সম্পৃক্ত করি। বিগতের মতো আগামী দিনেও আমরা সবাই মহান ভারতের এই সম্প্রীতির উৎসধারা বেগবান রাখব, কোনওরকম বিভেদ সৃষ্টির প্রয়াসকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করব। আজ নতুন করে আবারও অঙ্গীকার করার কথা কখনই যেন আমরা বিস্মৃত না হই।