মমতার প্রশাসনিক বৈঠক

0
30

৩০ তম বর্ষ, ৬৫ সংখ্যা, ১২ অক্টোবর ২০১৭, ২৫ আশ্বিন

নিজের ঘরানার ঝাড়গ্রাম জেলায় প্রশাসনিক সভা করে গেলেন মুহ্যমন্ত্রী। এই ভাবে জেলায় জেলায় নবান্নের সব সরকারি অফিসারদের নিয়ে, সঙ্গে বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রীদের নিয়ে প্রশাসনিক সভা করে চলেছেন তিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর এই সভার ব্যবহুলতা নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে ছাড়ে নি, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তাকে ডোন্ট কেয়ার। এটা তাঁর নিজস্ব ‘ব্রান্ড’ । কোনও বিরুপ সমালোচনাকে তিনি পাত্তা দিতে নারাজ। জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় বারবার বলতেন তাঁরা রাইটার্স থেকে রাজ্য চালান না, তাঁদের সরকার বিশ্বাসী ক্ষতা বিকেন্দ্রীকরণ নীতিতে। সেজন্য ক্ষমতায় এসেই ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছেন। সেই জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় বসেই একধাপ এগিয়ে গোটা নবান্নকেই জেলায় জেলায় নিয়ে গিয়ে নিজস্ব শৈলিতে প্রশাসনিক বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যে বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় সমস্ত সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করা। কোন ক্ষেত্রে ঘাততি থেকে গিয়েছে, কোন সময়ে প্রকল্পের কাঝ শেষ হয়নি, কী তার সমস্যা ইত্যাদি সমস্ত বিষয় নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী নিজে কাটাছেঁড়া করেন। জেলাশাসক, পুলিশ সুপার থেকে সমস্ত দফতরের সরকারি আধিকারিক, বিধায়ক, সাংসদ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, বিডিও পুরপ্রধান প্রভৃতি সবাইওকেই নিজ নিজ কাজের খতিয়ান তুলে ধরাই দস্তুর। ঘাটতি থাকলে অবধারিত মুখ্যমন্ত্রীর তিরস্কার। ঝাড়্গ্রাম জেলার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকেও সেই নিয়মের ব্যত্যয় খটল না। মুখ্যমন্ত্রীর অভিধানে রাখঢাকের কোনও বিষয় থাকতে পারে না। চূড়ামণি মাহাতোকেও তাঁর কাজে খুশি না হওয়ায় সর্বসমক্ষেই তিরস্কার করেছেন তিনি। এমনকী দলের ঝাড়গ্রাম জেলা সভাপতির পদ থেকেও সরিয়ে দিয়েছেন। এই ভাবে যেখানেই ফাঁকি সেখানেই কষাঘাত হেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিঃসন্দেহে এমনতর প্রশাসনিক বৈঠক সরকারি কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করবে। সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে তবেই সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। আর ওই কাজ তখন সঠিকভাবে রুপায়িত হয় যখন সমস্ত সরকারি দফতর কর্মসংস্কৃতি মেনে কাজ করে। এক একটি প্রকল্পের সঙ্গে সরকারের অনেকগুলি দফতরের ভুমিকা থাকে। কোনও এক জায়গায় কাজে মন্থরতা দেখা দিলে সেই প্রকল্প যথাসময়ে রূপায়িত হতে পারে না। সেই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই কর্মসংস্কৃতি উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এই রাজ্য কর্মসংস্কৃতির উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন এই রাজ্য কর্মসংস্কৃতির মান যে সরকারের ভাবমূর্তিকে কতখানি ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে বাম আমলে তা দেখেছে সবাই। তাই এই ভাবে জেলায় জেলায় গিয়ে একেবারে নীচু স্তর থেকে উপর স্তর পর্যন্ত প্রশাসনি কর্তাদের ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে উন্নত কর্মসংস্কৃতির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিঃসন্দেহে এটি তাঁর বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।