সিপিএমের ‘শেষপুর’ কেশপুর

0
69

৩০ তম বর্ষ, ৬৩ সংখ্যা, ১০ অক্টোবর ২০১৭, ২৩ আশ্বিন ১৪২৪

কেশপুর নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগে সিপিএম। পশ্চিম মেদিনীপুরের এই ব্লকটি যে বাম জমানায় খবরের শিরোণামে ছিলতা ভূভারতের অজানা নেই। কেবল কেশপুর নয়, এর সঙ্গে ছিল গড়বেতাও । শাসক দলের দীর্ঘ সন্ত্রাস, আবার কখনও হঠাৎ বিরোধী দলের জমি দখলের প্রাণপণ চেষ্টায় কেশপুর হয়ে উঠেছিল সরগরম। দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ কেশপুরে শাসক সিপিএমের যে ভয়ঙ্কর দাপট ছিল, একসময় তৃণমূলের দখলে চলে যাওয়া কেশপুরকে পুনর্দখল করতে সিপিএমের লড়াই সবই এখনও রোমহর্ষক ইতিহাস। প্রতিটি সংবাদপত্রকে কেশপুর, গড়বেতা নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করতে হয়েছিল তা পরবর্তীকালে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, নেতাই, আরামবাগ প্রভৃতি জায়গা ছাড়া আর কোনও জায়গার জন্য এতখানি পাতা খরচ করতে হয়নি। তার উপর তখনকার বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কেশপুরকে সিপিএমের শেষপুর’ করে ছাড়তে মরণপ্রাণ লড়াইও এখন ইতিহাসের পৃষ্ঠায় ঘুমিয়ে রয়েছে কেবল। সেই বহুচর্চিত কেশপুর ব্লকেই সেই সময়কার প্রবল প্রতাপশালী সিপিএমকে এখন একপ্রকার শীতঘুমে কাটাতে হচ্ছে সেটা বিস্ময়কর ঘটনা বইকী ! তবে গোটা রাজ্যটাকেই যখন সিপিএমকে ধরাশায়ী করে মমতার দল দখল করে নিয়েছে তখন কেশপুর শুধু নয়, সেই সময়ের রাজ্যের সন্ত্রাস ও হিংসাপ্রবণ সমস্ত এলাকাই বর্তমান শাসক দলের দাপটে শীতঘুমে চলে গিয়েছে। ইতিহাসের সমাপতন একেই বলে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যা বহুচর্চিত কেশপুরকে ‘সিপিএমের শেষপুর’ করে ছাড়লেও সেখানে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে ব্যর্থ সিপিএম । এজন্য জেলা নেতৃত্ব থেকে সেখানকার নেতৃত্ব শাসক তৃণমূলের সন্ত্রাসকেই দায়ী করেছেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর বাম আমলে ক্ষমতার বড় কেন্দ্র ছিল কেশপুরের জামশেদ আলি ভবন। সেই পার্টি অফিসটিও শুনসান এখন। দলের লোকাল, জোনাল, জেলা কমিটির বহুসদস্য এখনও ঘরছাড়া। অনেকের নামে মামলা কর্মী সমর্থকরা অনেকেই হয় শাসকদলে, নয় বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে সিপিএমকেই। লড়াই সংগ্রাম বিপ্লবের ডাকেই যখন তাদের পার্টির মূল শ্লোগান, তখন তাদের উচিৎ গনতান্ত্রিক পথে পুনরায় দলকে সংগঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া। এক্ষেত্রে শাসক দলের কোনও সন্ত্রাস সৃষ্টি কাম্য নয় আদৌ । গণতান্ত্রিক দেশে সব জায়গায় সব দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে। তবে ‘মুখ’ ফিরিয়ে নেওয়া কর্মী সমর্থকদের কোন বিকল্প পন্থায় পূনরায় দলমুখী করা সম্ভব হবে তা খুঁজতে হবে সিপিএম নেতৃত্বকেই।