সিপিএমের উদ্বেগ

0
24

৩০ তম বর্ষ, ৯৪ সংখ্যা, ১১ নভেম্বর, ২৪ কার্তিক ১৪২৪

কলকাতায় যা পারল সিপিএম, বিভিন্ন জেলায় তা পারল না। অথচ তাদের টার্গেট ছিল রাজ্যে ৭৭ হাজার বুথ জাঠা পদযাত্রা সংগঠিত করা। যে পদযাত্রা দলকে কিছুটা অক্সিজেন জোগাবে। বসে যাওয়া কর্মীদের মনে সাহস দেওয়া যাবে। কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় দলের রাজ্য কমিটির বৈঠকে হাহাকার শোনা গেল আলিমুদ্দিনের নেতৃকুলের মুখে। নিজেদের ব্যররথতার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন খোদ রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশও অথচ কলকাতা মহানগরে দলের ও বিভিন্ন গণসংগঠনের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ‘মহামিছিল’ সংগঠিত করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু সেটা তো বড় কথা নয়। গ্রাম গ্রামান্তরে সংগঠন মজবুত না থাকলে তো কোনও দলই উঠতে পারবে না। এই অভিজ্ঞতা তো সূর্যবাবুদের দলেও কম নয়। গ্রামাঞ্চলের দুর্ভেদ্য সংগঠনের দৌলতেই তো একটানা এই বঙ্গে ক্ষমতার থাকা সম্ভব হয়েছে বামফ্রন্টের। রাজ্যের প্রতিটি বুথের সঙ্গঠন দুর্ভেদ্য ছিল বলেই তো রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘ইতিহাস’ সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। প্রাবাদপ্রতিম কমিউনিস্ট নেতা জ্যোতি বসু প্রায় ২৩ বছর দাপটে মুখ্যমন্ত্রীত্ব চালিয়ে গিয়েছেন, তার উত্তর সূরি তাত্ত্বিক নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন প্রায় ১১ বছর। এই ২৩+১১=৩৪ বছর প্রতাপের সঙ্গে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সরকার চালানোর কঠিন কাজটি সম্ভব হয়েছে গ্রামাঞ্চলের দুর্ভেদ্য দুর্গের সুবাদেই। ত্রিস্তর পঞ্চায়েত, পার্টির ব্রাঞ্চ কমিটি থেকে লোকাল/জোনাল হয়ে জেলা কমিটির নেতাদের দাপটে বিরোধীদের তো মাথা তুলেই দাঁড়াতে দেয়নি। কেবল ব্যতিক্রম ছিল মুর্শিদাবাদ, মালদহ, পুর্ব মেদিনীপুর প্রভৃতি কয়েকটি জেলা মাত্র। যেখানে বিরোধীদের প্রভাবকে তেমন খর্ব করতে পারেনি সিপিএম কর্তারা। সেই তাঁরাই এখন যে বর্তমান শাসকদল তৃণমূলের দাপটে কোণঠাসা, তা গত ছ’বছর ধরেই আলিমুদ্দিন কর্তাদের গভীর উদ্বেগে ফেলে দিয়েছে। একটার পর একটা আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহন করা হলেও গ্রামাঞ্চলের সমস্ত বুথে তার প্রভাব পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এবার জাঠা পদযাত্রার ক্ষেত্রে তাই-ই ঘটেছে। ৭৭ হাজার বুথের মাত্র ৬০ শতাংশ বুথে পদযাত্রা সংগঠিত হয়ছে। বাকি সবেই ফাঁকা ময়দান। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে যা গভীর চিন্তার বিষয় সূর্যকান্ত মিশ্রদের। সমস্ত বুথে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে চিন্তার ভাঁজ সকলের মনে। এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে উঠে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছেন তাঁরা। শুধু শাসক দল নয় পথে বাধা বিজেপিও। উদ্বেগটা এখানে।